প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র, ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে মার্কিন সেনা নিহত

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত নতুন করে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক সেনা। এদিকে ইরান নতুন করে উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।

রোববার (১৯ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে একটি অবিস্ফোরিত ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয় এবং অপর একজন আহত হন। নিরাপত্তাজনিত কারণে নিহত সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সবশেষ এই মৃত্যুর পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান-সম্পর্কিত হামলায় নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। এর আগে শুক্রবার জর্ডানে ইরানি হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। সেন্টকম জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত দেহাবশেষের পরিচয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে উত্তেজনা দুই পক্ষের সামরিক অভিযানকে আরও তীব্র করেছে।

সংঘাতের শুরু থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শত শত 'শাহেদ' একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করেছে। তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি হওয়ায় এসব ড্রোন ইরানের জন্য কার্যকর অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি শাহেদ ড্রোন তৈরিতে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হয়, অথচ এগুলো প্রতিহত করতে ব্যবহৃত একটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতেও ব্যর্থ হচ্ছে।

এদিকে রোববার ইরানের গণমাধ্যম দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের কাছে এবং ইরাক সীমান্তবর্তী শাদেগান এলাকায় হামলা চালিয়েছে। পরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবাদানেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দারখোভিনে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়েছে দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, তারা হামলার ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। কেন্দ্রটি তখনও নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, সর্বশেষ হামলার জবাবে কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

কুয়েত সরকার জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একটি পানি পরিশোধন কেন্দ্রে হামলা হয়েছে। এতে স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায়। দেশটির ভাষ্য, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা।

এদিকে বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি হামলা প্রতিহত করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনীও তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে। হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে দেশটি ইরানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে।

চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতেও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন