প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ০২:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য নারীকে ইতালিতে পাঠানোর মাধ্যমে ভিসা জালিয়াতি ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত সিল, একটি এম্বুস সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. বেলায়েত হোসেন, নাজমুল হাসান, মেহেদী হাসান, মো. সোলাইমান সুমন, ফজলে রাব্বী, মো. তৌহিদুর রহমান ও কাওসার হোসেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব এসব তথ্য জানান।
আবু তালেব বলেন, গত ২০ জুলাই রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানবপাচার শাখার (টিএইচবি) সদস্যরা চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে এবং দণ্ডবিধির প্রতারণা ও জালিয়াতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলার বাদীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার আশায় ওই নারী ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। পরে পাসপোর্ট নবায়নের সময় নাজমুল হাসান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাদীকে গুলশানের একটি ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
পরে অভিযুক্তরা ইতালির ভিসা করে দেওয়ার কথা বলে বাদীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করে। একপর্যায়ে তারা তার পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দেয়। পাসপোর্ট ফেরত ও ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশায় বাদী দুই দফায় মোট চার লাখ ৪০ হাজার টাকা অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে পাঠান।
কিন্তু পরে সন্তানদের নিয়ে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে এরইমধ্যে অন্য এক নারী ২৪ এপ্রিল ইতালি চলে গেছেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, তার পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য একজনকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে।
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ভুক্তভোগী সিআইডির মানবপাচার শাখায় অভিযোগ করলে তদন্ত শুরু হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করে মানবপাচার শাখা। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা এবং গ্রেপ্তারদের সম্পৃক্ততার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক পাসপোর্ট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল, কম্পিউটারসহ নানা আলামত জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি বিদেশে যাওয়ার আগ্রহী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করত। পরে ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠাত।
সিআইডির তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের মূলহোতা বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং মামলাটি বিচারাধীন।
বর্তমানে জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল, কম্পিউটার ও অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডি বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদের সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে যাচাই-বাছাই ছাড়া পাসপোর্ট বা অর্থ হস্তান্তর না করা এবং ভিসা জালিয়াতি বা মানবপাচারের সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সিআইডিকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন