বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১ ঘন্টা আগে, ০৫:১১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

রাশিদা বেগম হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন, পলাতক ৩ আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

ছবি: সংগৃহীত

খুলনার দিঘলিয়ায় প্রায় ১৪ বছর আগে সংঘটিত রাশিদা বেগম হত্যা ও ডাকাতির মামলায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (চতুর্থ) আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— দিঘলিয়া দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মো. মুনসুর আলীর স্ত্রী মোছা. আনোয়ারা বেগম, তার ছেলে মো. ইসমাইল শেখ ওরফে বাবু, জামাই শামিম শেখ, মহেশ্বরপাশা এলাকার রাজু ওরফে রাজু মুন্সি এবং তেরখাদা উপজেলার ইলিয়াস শেখ।

রায় ঘোষণার সময় শামিম শেখ ও আনোয়ারা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নাসিরুজ্জামান পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বাইরে যান। বাড়িতে ছিলেন তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়ে এবং বৃদ্ধা মা রাশিদা বেগম। এ সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরের একটি দল বাড়িতে প্রবেশ করে। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গেলে রাশিদা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে ঘর থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

সেদিন বৈরী আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে বাড়ি ফিরতে নাসিরুজ্জামানের দেরি হয়। ফিরে এসে ডাকাডাকিতে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরে প্রবেশ করলে খাটের নিচে মায়ের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। পরদিন, ২০ জুলাই, তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে দিঘলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১২ মার্চ দিঘলিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এটিএম মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি স্যান্ডেলকে সূত্র ধরে তদন্ত এগোয়। সেই সূত্রে প্রথমে শামিম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, তিনি রাশিদা বেগমের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন এবং বাড়ির বিভিন্ন তথ্য অন্য আসামিদের কাছে পৌঁছে দিতেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আসামিরা বাড়িতে প্রবেশ করে রাশিদা বেগমকে হত্যা এবং লুটপাট চালায়। পরে ধারাবাহিকভাবে অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন