প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৮:৩৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ভারত, এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং সফরটি শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে বলে তারা আশাবাদী।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের ওপর নির্ভর করছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে তারা বাংলাদেশ সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। খুব শিগগিরই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ব্রিকসের সদস্য না হলেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এদিকে বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাদের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর প্রথম বৈঠক।
সাক্ষাৎ শেষে বৈঠককে ‘অত্যন্ত চমৎকার’ ও ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মূল লক্ষ্য ও স্বার্থের অনেক জায়গাতেই মিল রয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গভীরতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভবিষ্যতের স্বপ্ন এমনকি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও দুই দেশের মানুষের মধ্যে গভীর যোগাযোগ রয়েছে। ক্রিকেটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠকে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভারত-বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত ইতোমধ্যে ভিসা কার্যক্রম চালু করেছে, যাতে দুই দেশের মানুষ এর সুফল পেতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। আমরা শুধু সীমান্ত ভাগাভাগি করি না, আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নও এক।’
ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত উভয় দেশের মানুষের পারস্পরিক কল্যাণ। বুধবারের বৈঠককে তিনি সেই সম্পর্ক আরও গভীর করার সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বুধবারের বৈঠকটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকলে কোনো সমস্যাই সমাধানের বাইরে নয়। দুই দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণই আলোচনার মূল বিষয় হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পানিবণ্টন ইস্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা নিজেদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করবে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং ভারতের আসন্ন সফরে সামগ্রিক বিষয়গুলোতে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন