বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৪৪ মিনিট আগে, ১২:১৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

গাইবান্ধায় ধানের ন্যায্য মূল্য পেয়ে খুশি প্রান্তিক কৃষকরা

ছবি; সংগৃহিত

গাইবান্ধায় সরকারি খাদ্য গুদামে ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। বাজার দরের চেয়ে বেশী দামে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পেরেছেন। এতে ধানের ন্যায্য মূল্য পেয়ে খুশি প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধায় চলতি বছরে ২৫ মে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়। জেলার ৭ উপজেলার ১১টি এলএসডি সরকারি খাদ্য গোডাউনে ধান ক্রয় করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩শ’ ৯৬ মেট্টিক টন।
কর্মকর্তারা জানান, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে লক্ষে, ধান সংগ্রহের জন্য জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। কৃষক অ্যাপস এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকরা নিজের বা পরিবারের মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। যেখানে খাদ্য গোডাউনে ধান কখন, কীভাবে দিতে হবে তার স্পষ্ট সুনির্দিষ্ট ধারনা দেয়া হয়। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হলে লটারির মাধ্যমে পরে নির্বাচিত কৃষকদের কাছে থেকে ৩৬টাকা কেজি দরে কৃষক প্রতি তিন টন করে ধান ক্রয় করা হয়। ধান সংগ্রহে কৃষকদের নিজেদের ব্যাংক হিসাবে তাঁদের ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করে খাদ্য বিভাগ। এতে হয়রানি ছাড়াই সুষ্ঠু পরিবেশে গুদামে ধান দিয়ে ন্যায্য মূল্য পেয়ে খুশি কৃষকরা।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাজলডোপ এলাকার কৃষক শ্রী. নয়ন চন্দ্র বলেন, সরকারি অ্যাপস এ আবেদন করি। লটারিতে আমার নাম উঠে। সরকারি খাদ্য গুদামের কোনো হয়রানি ছাড়াই ধান দিতে পেয়েছি। 
বাজারের দামের চেয়ে সরকারি দাম মন প্রতি ৪শ’ টাকা বেশী পেয়েছি। কৃষকদের ধানের দাম ভালো দেয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। সদর উপজেলার বল্লমঝড় ইউনিয়নের ধানগড়ার কৃষক মাজেদুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, আমি এ বছর তিন টন ধান সরকারি খাদ্য গুদামে দিয়েছি। দামও বাজার মূল্যর চেয়ে বেশী পেয়েছি। 
সরকার এভাবে আমাদের পাশে থাকবে বলে আশা করছি।
সাঘাটার শিমুলতাড়ই গ্রামের কৃষক হান্নান মিয়া বাসস’কে বলেন, আমি এ বছর সরকারি খাদ্য গুদামে ধান দিয়েছি। একজন কৃষক হিসেবে গুদামে ধান দিয়ে ন্যায্য মূল্য পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। তবে গুদামে ধান দেয়ার পরিবেশ খুবই ভালো ছিল।
গাইবান্ধা সদর এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস.এম শাহিদ হাসান বাসস’কে বলেন, কৃষক আগে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান দিতে চাইতো না। বর্তমান সরকার কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্য মূল্য পায়, তাই প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬টাকা কেজি দর নিধারণ করে দেয়। বিষয়টি কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ বছর সরকারের নিদের্শনা অনুযায়ী কোনো হয়রানি ছাড়াই প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুন্ডু বাসস’কে বলেন, গাইবান্ধায় ১১টি এলএসডি গোডাউনে নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে থেকে মোট ১৪ হাজার ৩শ’ ৯৬ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। কৃষকরা আনন্দের সাথে সশরীরে গোডাউনে এসে উপস্থিত থেকে ধান দিয়েছেন এবং নিজেদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই কৃষকরা সরকারি গোডাউনে ধান বিক্রি করছেন। আশা করছি আগামী বছর গুলোতে কৃষক ভাইয়েরা সরকারি খাদ্য গুদামে ধান দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন