বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ০৯:৫৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বহুল আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার হাইকোর্টের রায় আজ

ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের রায় আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘিরে আদালতপাড়ায়ও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়টি ঘোষণা করবেন। এর আগে গত ২০ আগস্ট মামলাটির ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে হাত-পা বেঁধে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

ঘটনার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই মামলার বিচার শেষ করে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর দেওয়া রায়ে বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সিরাজ উদদৌলা, তৎকালীন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের ও প্রভাষক আফসার উদ্দিনসহ মোট ১৬ জন।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলাটি হাইকোর্টে নথিভুক্ত হয়। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পৃথকভাবে আপিল ও জেল আপিল করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন। পরে ১৪ জুন থেকে বেঞ্চটি কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ২০ আগস্ট মামলার সব পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন শেষ হয়।

নুসরাত হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছিল। একজন শিক্ষার্থীর ওপর নির্মম নির্যাতন এবং পরে তাকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। নিম্ন আদালতের রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের পর এখন হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন মামলার বাদীপক্ষ, আসামিপক্ষ এবং সাধারণ মানুষ।

আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে নুসরাত হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখবেন, নাকি সাজা পরিবর্তন করবেন, রায়ের পরই তার স্পষ্ট উত্তর মিলবে।

বাংলাধারা/শারমিন  

 

মন্তব্য করুন