বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৪১ মিনিট আগে, ১১:১৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

শরতের কাশফুলে শুভ্র বরগুনার বিসিক শিল্প নগরী, ভিড় বাড়ছে দর্শনার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্ষাকে বিদায় জানিয়ে শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে  প্রকৃতির ক্যানভাসে বইছে শুভ্রতার হাওয়া। নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে অসংখ্য সাদা মেঘের ভেলা। একইসঙ্গে তাল মিলিয়ে বরগুনার বিসিক শিল্প নগরী এলাকা এখন মুখরিত হয়ে আছে সাদা কাশফুলের সমারোহে। আর এ কারণেই রূপসী শরতের এমন মনোহরী সৌন্দর্য আর কাশফুলের স্নিগ্ধ ছোঁয়া পেতে বিসিক শিল্প নগরীতে ভিড় করছেন শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীরা। সরেজমিনে বরগুনার বিসিক শিল্প নগরী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চারপাশে থাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে শিল্প নগরীর বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য কাশফুল। চারদিকে শুধু সবুজের মাঝে সাদা রঙের শুভ্রতা। বরগুনা পৌরশহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এমন কাশবন এবং ফুটে থাকা সাদা রঙের শুভ্রতা উপভোগ করতে প্রতিদিনই বিসিক শিল্প নগরীতে ভিড় করছেন নানা বয়সের মানুষ। বিশেষ করে ছুটিরদিনে মুক্ত বাতাসে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে ছুটে আসছেন অভিভাবকরা।   
শিল্প নগরীতে এসে এসব দর্শনার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ ঘুরে বেড়াচ্ছেন আপন মনে, কেউ আবার প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের ভিডিও কিংবা সেলফি তুলে সময় পার করছেন। এ ছাড়া পরিবারের সঙ্গে আসা শিশুরাও আনন্দে উচ্ছ্বাসিত হয়ে সাদা কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছে। শহরের কাছাকাছি তেমন কোনো পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় বর্তমানে বিসিকের এ এলাকাটি একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করছেন ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে  প্রকৃতির সংস্পর্শে আসতে পারায় শিশুদের মোবাইল ফোনে আকৃষ্ট হওয়া থেকেও কিছুটা বিরত রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। 
স্ত্রীকে নিয়ে বিসিক শিল্প নগরীর কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরতে এসে আশীষ হাওলাদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, শরতের এই সময়ে কাশফুল ফোটে। কিন্তু বরগুনায় কাছাকাছি ঘুরতে যাওয়ার জন্য বিসিকের মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। কাজকর্ম শেষে এখানে আসলে যে কারোরই সারাদিনের ক্লান্তি থেকে একটু স্বস্তি মিলবে। এখানে ঘুরতে এসে ভালো লেগেছে। অনেকই ঘুরতে এসেছেন। যে যার মতো করে ঘুরছেন, ছবি তুলছেন এবং আনন্দ করছেন। 
শরতের আগমন এবং বর্ষার বিদায় তা কাশফুল দেখলেই বোঝা যায়। ঋতু পরিবর্তনের এমন সুন্দর একটি উদাহরণ হয়তো শুভ্রতার প্রতিক এই কাশফুল। এমন মনোরম পরিবেশ বরগুনায় আর কোথাও নেই। এখানে এসে ভালো লেগছে এবং উপভোগ করেছি। মেয়েকে নিয়ে বিসিক শিল্প নগরীতে ঘুরতে এসেছেন নাদিরা বারেক দিবা নামে এক স্কুল শিক্ষক। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার বাচ্চা পড়াশোনা শেষ করেই মোবাইলে আসক্ত হয়ে যায়। বরগুনায় কাছাকাছি তেমন ঘুরতে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। সবাই এখন কাশফুল দেখতে বিসিকে ঘুরতে আসছেন। আমিও বাচ্চাকে নিয়ে বান্ধবীদের সঙ্গে কাশফুল দেখতে এসেছি। 
স্থানীয় এক বাসিন্দা ইশরাত জাহান রুমি মেয়েকে নিয়ে কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে বিসিক শিল্প নগরীতে এসে ঢাকা পোস্টকে বলেন, বরগুনার মধ্যে এমন একটি জায়গার সৃষ্টি হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে আসার পরিবেশ পেয়েছি। সময় পেলেই আমার মেয়ে মোবাইল নিয়ে বসে যায়। আর এ কারণেই মোবাইল বাসায় রেখে মেয়েকে নিয়ে এই মনোরম পরিবেশে ঘুরতে এসেছি। বরগুনার পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের শহরের আশপাশে বিনোদনের জন্য যাওয়ার তেমন কোনো জায়গা নেই। যা আছে তাও অনেক দূরে। সে দিক থেকে এই শরতের সময়ে যখন বিসিক এলাকায় কাশফুল ফোটে তখন মানুষের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। বিগত সাত থেকে আট বছর ধরে আমরা একই চিত্র দেখছি। তবে বিসিক শিল্প নগরীর কতৃপক্ষ গাছগুলো কাটা শুরু করেছে। কারণ তারা গাছগুলো  বিক্রি করে ফেলেন। কিন্তু যদি আরও কিছুদিন পর গাছগুলো কাটার উদ্যোগ নিলে ভালো হতো।  

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন