বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩ ঘন্টা আগে, ০১:৪৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আসামে বন্যায় মৃত বেড়ে ৮২, পানিবন্দি প্রায় ২ লাখ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও রাজ্যের পাঁচটি জেলায় বন্যার প্রভাব রয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ। তবে বৃহস্পতিবারের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজ্যটির কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও ও চরাইদেও জেলা। রাজ্যজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৯৯ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চরাইদেও জেলার বাসিন্দারা। এ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৭৭ হাজার ৪৫৬ জন। এরপর শিবসাগরে ৬৩ হাজার ৪৯২ এবং জোরহাটে ৩৪ হাজার ৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য একাধিক ত্রাণ ও পুনর্বাসন উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন, গবাদিপশু ও সম্পত্তির বীমা দাবিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঋণগ্রহীতাদের সাময়িক স্বস্তি দিতে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ পরিশোধ স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোলাঘাট, শিবসাগর ও নুমালিগড় এলাকায় দিখৌ ও ধানসিরি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এসব এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৩ হাজার মানুষ বর্তমানে ৫৪টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া ২৬টি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৩৮৪ জনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বন্যায় নতুন করে শিবসাগর ও চরাইদেও জেলায় একজন করে মারা গেছেন। এতে চলতি বছরের বন্যায় রাজ্যটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৮২ জন হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির দ্রুত হিসাব নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। মেরামত ও পুনর্বাসনের জন্য দ্রুত তহবিল বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বীমা দাবির দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আগামী ৫ আগস্ট সরকারি ও বেসরকারি বীমা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে রাজ্য মন্ত্রিসভা।

একই দিনে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও বৈঠক হবে। শিবসাগর, চরাইদেও, জোরহাট ও গোলাঘাটের ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়ার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুরোধ জানানো হবে।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন