প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০২:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশার যথার্থ জবাব হবে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ নির্দেশনার কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে পুলিশ কমিশনার ও স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন করা যায়।
সাম্প্রতিক আলোচিত আসিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় কার্যকরে বিলম্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের হতাশা স্বাভাবিক হলেও সরকার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, ওই মামলায় সাত দিনের মধ্যে চার্জশিট এবং এক মাসের মধ্যে বিচার শেষ হয়েছিল। এর চেয়ে দ্রুত বিচার করতে গেলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, রায় কার্যকরের আগে ‘ডেথ রেফারেন্স’ সুপ্রিম কোর্টে অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হয়। হাইকোর্টে পেপার বুক প্রস্তুতের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থাকায় অনেক সময় বিলম্ব ঘটে। তবে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ব্যতিক্রমের নজির রয়েছে—মেজর সিনহা ও আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিশেষ অনুমতি নিয়ে দ্রুত পেপার বুক করা হয়েছিল। রামিসা ও আসিয়ার মামলাতেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারে, তবে আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেই বিচারাধীন হবে বলেও জানান তিনি।
দেশে বিচারাধীন মামলার জট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এত বিপুল মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চ্যালেঞ্জ হলেও সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ধর্ষণ মামলা কোনোভাবেই রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
বাংলাধারা/এসআর
মন্তব্য করুন