প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ১২:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।
এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। রিটে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়।
রিটের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) এক গবেষণায় দেশের বাজারে থাকা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও এ ধরনের কণা পাওয়া গেছে।
গবেষণাটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে পরীক্ষার পর দেখা যায়, পরীক্ষিত নমুনার ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে।
গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেল’-এ, যেখানে প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ‘ক্লোজআপ রেড হট’, ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ’, ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’, ‘সিগন্যাল গ্রিন টি’, ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার’-সহ আরও বেশ কয়েকটি পরিচিত ব্র্যান্ডের টুথপেস্টেও বিভিন্ন মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে আটটি টুথপেস্টে শনাক্তযোগ্য মাত্রায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে রয়েছে ‘প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার’, ‘জেনফ্রেশ’, ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল’, ‘কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ’, ‘কোডোমো অরেঞ্জ’ ও ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো)’সহ কয়েকটি ব্র্যান্ড।
গবেষকদের মতে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, কঠোর নজরদারি এবং বাজার তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন