প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৫:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি-বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনঃপরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই এ তথ্য জানায়।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় বাজারে থাকা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার দাবি ওঠে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বিষয়টি উদ্বেগজনক হওয়ায় তা যাচাইয়ে নিজস্ব উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
বিএসটিআই জানিয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের কম আকারের অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) একে উদীয়মান পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এখনো আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণা চলমান এবং আরও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিএসটিআই আরও জানায়, বাংলাদেশে টুথপেস্ট উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ‘বিডিএস ১২১৬:২০১২ স্পেসিফিকেশন ফর টুথপেস্ট’ মানদণ্ড অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়। সরকার এসআরও জারির মাধ্যমে টুথপেস্টের জন্য বিএসটিআই লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করেছে। লাইসেন্স দেওয়ার আগে রাসায়নিক, মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
সংস্থাটির ভাষ্য, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডে টুথপেস্ট তৈরিতে ব্যবহারের জন্য ৮১টি অনুমোদিত উপাদানের তালিকা রয়েছে, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো উল্লেখ নেই। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ নেই বলেই বিএসটিআই মনে করে।
তবে কেবল কোনো পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা শনাক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে তা ব্যবহার করেছে কিংবা সেটি সরাসরি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কণার উৎস, ধরন, পরিমাণ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, পরীক্ষার পদ্ধতি, কাঁচা (র-ডাটা) তথ্যসহ প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছ থেকেও কাঁচামাল, উপাদান এবং সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিএসটিআই বলছে, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা টুথপেস্টকে অনিরাপদ কিংবা নিম্নমানের ঘোষণা করা সমীচীন নয়।
এদিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় টুথপেস্টের মানদণ্ডও হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, দন্ত চিকিৎসক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেলে টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, উপাদান প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা এবং আধুনিক পরীক্ষাপদ্ধতি সংযোজন করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড হালনাগাদ করা হবে বলে জানিয়েছে বিএসটিআই।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন