বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ০৪:৫০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সরকার: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, অভিযোগগুলোর তদন্ত শেষে জনস্বার্থ বিবেচনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, দুদকের চেয়ারম্যান এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অবিচার করতে চায় না। তবে তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী পরবর্তী সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দেশের দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ। তিনি অভিযোগ করেন, খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে এলজিইডির সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পে কাগজে-কলমে উন্নয়ন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি তার দাবি, আগের তুলনায় বর্তমানে মিথ্যা মামলার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠা পেতে কোনো শর্টকাট নেই। নিয়মিত অধ্যয়ন, পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজের রাজনৈতিক দলের কেউ জড়িত থাকলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রায় ১ হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আইন পেশার নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং সামাজিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন