ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ইবিতে শিক্ষিকা খুন, অভিযুক্ত কর্মচারীর আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: মার্চ ০৪, ২০২৬, ০৯:১১ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে তার নিজ অফিসকক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান হামলার পর নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষিকার চিৎকার শুনে আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা দরজা ভেঙে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ফজলুর রহমান আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বিভাগের ইফতার মাহফিল উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিভাগের সভাপতির কক্ষ থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার ভেসে আসে। ভবনের নিচে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা দ্রুত উপরে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দেন। সাড়া না পেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা আসমা সাদিয়া রুনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। একই সময় অভিযুক্ত কর্মচারীকে নিজের গলায় ধারালো অস্ত্র চালাতে দেখা যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আসমা সাদিয়া রুনা কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তার স্বামী মোহাম্মদ ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক। তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জননী রুনার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজলুর রহমান প্রায় আট বছর ধরে সমাজকল্যাণ বিভাগে থোক বরাদ্দে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি আসমা সাদিয়া রুনা বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় এক মাস আগে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও সভাপতির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সহকর্মীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ইবি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ঘটনার পরপরই দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত কর্মচারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান জানান, প্রশাসন ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। উপাচার্য প্রফেসর ড. নকিব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ একে অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রয়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের।


বাংলাধারা/এসআর