ঢাকা, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

স্ট্রেস কমাতে দৈনন্দিন জীবনে গড়ে তুলুন এই ৪ অভ্যাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৬, ১১:৩৭ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনিয়মিত জীবনযাপন, কাজের চাপ ও মানসিক উদ্বেগের কারণে অনেকেই স্ট্রেসে ভুগছেন। এর প্রভাব পড়ে মেজাজ, ঘুমের ধরন এমনকি শরীরের হরমোনের ভারসাম্যের ওপরও। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলো তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।

১. নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
শরীরের হরমোন একটি নির্দিষ্ট জৈব ছন্দ বা সার্কাডিয়ান রিদম অনুসরণ করে। অনিয়মিত ঘুম, গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা বা অতিরিক্ত সময় মোবাইল ও স্ক্রিনে কাটানো এই ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে শরীরের হরমোন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে এবং মানসিক চাপও কমে।

২. স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখুন
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ধীরে ধীরে অন্যান্য হরমোনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিদিন কিছু সময় নিজের জন্য রাখা, যেমন- যোগব্যায়াম, ধ্যান, ডায়েরি লেখা বা হালকা হাঁটা, এসব অভ্যাস স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।

৩. স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনি শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় পূর্ণ শস্যজাত খাবার, মৌসুমি ফল, শাক-সবজি, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ রাখা জরুরি। এসব পুষ্টিকর খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।

৪. শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন
নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, বিপাকক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এজন্য খুব কঠোর ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন দ্রুত হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়ামের মতো মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চাও দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সক্রিয় জীবনযাপন, এই চারটি অভ্যাসই ধীরে ধীরে শরীর ও মনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাধারা/এসআর