প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০৬:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অতিভারী বর্ষণের প্রভাবে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার।
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী স্টেশনে দুধকুমার নদীর পানি ৯৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে এটিই একমাত্র নদী, যেখানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
এ ছাড়া নীলফামারীর ডালিয়া, রংপুরের কাউনিয়া ও লালমনিরহাটের তারাপুরে তিস্তা নদী, সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদী, ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে যাদুকাটা নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে। এছাড়া রংপুরের বদরগঞ্জে ৯৩ মিলিমিটার, কুড়িগ্রাম সদরে ৮২ মিলিমিটার, চিলমারী ও ডালিয়ায় ৮০ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
একই সময়ে ভারতের উজান অঞ্চলেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটে ২০৩ মিলিমিটার এবং আসামের ডিব্রুগড়ে ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের নদীগুলোর ওপর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ ও মেঘালয়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এরপর আরও তিন দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ অবস্থায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে ২ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে গঙ্গা নদীর পানি গত এক দিনে কিছুটা কমলেও আগামী দুই দিন পর আবার বাড়তে পারে। পদ্মা নদীর পানিও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। তবে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে এই দুই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীগুলো আবারও সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান জলাবদ্ধতা ও প্লাবন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি আগামী তিন দিন আরও বাড়বে। এর মধ্যে তিস্তা আগামী ২৪ ঘণ্টা এবং ধরলা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে কুড়িগ্রামে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানি বাড়লেও ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
অন্যদিকে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ঢাকার আশপাশের নদীগুলোতে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে পানি কিছুটা বাড়লেও তা বিপৎসীমা অতিক্রম করবে না বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী ও সাঙ্গু নদীর পানিও আগামী তিন দিনের মধ্যে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন