প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৬:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় অনেকের মধ্যে প্রশ্ন ছিল- স্থানীয় নির্বাচন আদৌ হবে, নাকি প্রশাসকদের দিয়েই মেয়াদ শেষ করা হবে।
তবে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর থেকেই ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। এরপর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন চেয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার টানানো হচ্ছে। একই পদে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে সক্রিয় হওয়ায় অনেক এলাকাতেই অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তবে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির হাইকমান্ড অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয় নয়; বরং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন, রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করা এবং আগামী জাতীয় রাজনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার একটি বড় সুযোগ।
দলের একাধিক সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বিদ্রোহী প্রার্থী ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই শুরু থেকেই প্রতিটি এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে সম্ভব, সেখানে একক গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্ধারণ কিংবা আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ কমানোর চেষ্টা চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচন ঘিরে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা দলীয় বিভক্তি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা জানান, স্থানীয় সরকারে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ন রাখাই এবার হাইকমান্ডের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। সে কারণে ক্লিন ইমেজের, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কোনো ধরনের প্রভাব বা অনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদেরও কিছু এলাকায় সমন্বয়ের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
তিনি আরও জানান, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করছেন। খুব শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে, যা সারাদেশে নির্বাচনী কার্যক্রম সমন্বয় করবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নিবেদিতপ্রাণ এবং গ্রহণযোগ্য নেতাদের অগ্রাধিকার দিয়ে অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীকে ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল হওয়ায় একাধিক প্রার্থী থাকাটা স্বাভাবিক। তবে তাঁদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে শীর্ষ নেতৃত্ব কাজ করছে।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিতর্কিত কিংবা নেতিবাচক ভাবমূর্তির কাউকে এবার কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারাই অগ্রাধিকার পাবেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনী শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে শুধু ভোটের লড়াই নয়, বরং তৃণমূলে দলীয় ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখার পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবেই দেখছে বিএনপির হাইকমান্ড।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন