প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ১১:১৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭১৯ জনে। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দেশটির বহু এলাকায় উদ্ধার অভিযান এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহায়তার অভাবে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব অনেক জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কাঁধেই এসে পড়েছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও ক্ষীণ হয়ে আসছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরে স্বজনদের উদ্ধারে স্থানীয়রা শাবল, কোদাল ও হাতুড়ি নিয়েই ধ্বংসস্তূপে কাজ করছেন। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর মধ্যেই সোমবার ভোরে দেশটিতে আরও একটি পরাঘাত অনুভূত হলেও নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ ঘটনাকে দেশের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হিসাব পর্যন্ত ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৭১৯ জন।
আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করলেও দুর্যোগের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ইতোমধ্যেই পেরিয়ে গেছে। ফলে জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই কমে আসছে। তবে এর মধ্যেও সোমবার ভোরে প্রায় ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যা উদ্ধারকর্মীদের নতুন করে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। এরপর সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়।
যদিও দুর্গত এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে, তবে উদ্ধার অভিযানে তাদের ভূমিকা খুব একটা চোখে পড়ছে না বলে জানিয়েছে বিবিসি।
কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সরকারি উদ্ধার তৎপরতা সীমিত হওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষই খাদ্য ও জরুরি সামগ্রী নিয়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেক এলাকায় এই সহায়তাই এখন মানুষের প্রধান ভরসা।
তবে সরকারের দাবি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৫ হাজারের বেশি জরুরি সেবাকর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য কাজ করছেন। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, "এখন প্রতিটি জীবন উদ্ধার করাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।"
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নিরাপত্তা মূল্যায়নে রঙভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে কোন এলাকার মানুষ নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের কাজও চলছে।
অন্যদিকে জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো জানিয়েছেন, মূল ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৫০০টির বেশি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার ৫০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য আরও প্রাণহানার আশঙ্কায় জাতিসংঘ ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে। কারণ, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ যত এগোবে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন