প্রকাশিত: ১১ ঘন্টা আগে, ০২:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৫ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু জানান, সভায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন।
সভায় উপস্থিত মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, পরিকল্পিতভাবে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এর মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি বৈশ্বিক কার্বন বাজার থেকেও অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কার্বন ক্রেডিট হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যবহৃত একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা। বায়ুমণ্ডলে এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো কিংবা অপসারণের বিপরীতে একটি কার্বন ক্রেডিট প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, কার্বন ট্রেডিং হলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে বাজারভিত্তিক একটি ব্যবস্থা। এতে নির্ধারিত সীমার বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত কার্বন ক্রেডিট কিনতে হয়। বিপরীতে, বনায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে যারা কার্বন নিঃসরণ কমাতে সক্ষম হয়, তারা কার্বন ক্রেডিট অর্জন করে তা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করতে পারে।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন