বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৫:৫৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর বাজারে স্বস্তি, কমেছে ডিম, সবজি ও পেঁয়াজের দাম

ছবি: বাংলাধারা

রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিম, বিভিন্ন ধরনের সবজি ও দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে। তবে বৃষ্টির প্রভাবে কাঁচামরিচ ও দেশি রসুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, নিউমার্কেট ও তুরাগের নতুন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে মৌসুমি সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। সবজির দাম কমায় ডিমের চাহিদার ওপরও চাপ কিছুটা কমেছে, ফলে ডিমের দামও নিম্নমুখী হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে কাঁচামরিচের সরবরাহে সাময়িক প্রভাব পড়ায় এর দাম বেড়েছে।

বাজারে প্রতি কেজি ঝিঙা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে। সবজির মধ্যে বেগুনের দাম তুলনামূলক বেশি, যা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচামরিচের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা কমে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় নেমেছে। দেশি আদার সর্বনিম্ন দাম ১৪০ টাকা থেকে কমে ১৩০ টাকায় এলেও সর্বোচ্চ দাম ১৬০ টাকাই রয়েছে। আমদানিকৃত রসুনের সর্বোচ্চ দাম ২২০ টাকা থেকে কমে ২০০ টাকায় নেমেছে। তবে দেশি রসুনের সর্বনিম্ন দাম ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ টাকায় উঠেছে। এর সর্বোচ্চ দাম ১৪০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর বাজারদর প্রতিবেদনের সঙ্গেও বাজারের এই চিত্রের মিল পাওয়া গেছে। সংস্থাটির মাসিক তুলনামূলক তথ্যে দেখা যায়, দেশি রসুনের দাম মাসের ব্যবধানে প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে দেশি পেঁয়াজের দাম প্রায় ১১ দশমিক ১১ শতাংশ কমেছে। এছাড়া লেবু ও শসার দামও প্রায় ২৫ শতাংশ করে কমেছে।

ডিমের বাজারেও এসেছে স্বস্তি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের সাদা ও বাদামি ডিমের দাম ডজনপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমেছে। বর্তমানে বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা এবং সাদা ডিম ১১০ টাকা ডজনে। গত সপ্তাহে একই ডিমের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে।

মুরগির বাজারে ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। চাষের কৈ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, রুই ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, টেংরা ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে ইলিশের দাম এখনও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। বাজারে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহ সবজির বাজারে এই স্বস্তি বজায় থাকতে পারে। তবে অতিবৃষ্টি বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে কাঁচামরিচসহ কিছু কৃষিপণ্যের দামে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন