চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ০৬:৪৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, মাঠে জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম

পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়তে মাইকিং

ছবি: বাংলাধারা

নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এর আগে রোববার রাতেও একইভাবে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় নগরের সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকেও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে। ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, শনিবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয়জন সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তারা মাইকিংয়ের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে কাজ করছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নগরের আকবরশাহ ঝিল-১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড় এবং বেলতলীঘোনা পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, সমসামিত গৃহনির্মাণ এলাকা, মিয়ার পাহাড় এবং মুরাদপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়ে মাইকিং করা হচ্ছে। এসব এলাকার নিকটবর্তী কয়েকটি স্কুল ও মাদ্রাসাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরা বলেন, মতিঝর্ণা এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে পারেন।

আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান বলেন, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগানসংলগ্ন পাহাড় এবং উত্তর হালিশহর উপকূলসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত বাসস্থান খালি করারও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন