প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ০৬:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
প্রায় দুই দশক ধরে গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শাসন কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সংগঠনটির এ সিদ্ধান্তের ফলে গাজা পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত একটি টেকনোক্র্যাট বা জাতীয় প্রশাসনিক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের পথ আরও সহজ হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হামাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাজার বেসামরিক প্রশাসন একটি জাতীয় টেকনোক্র্যাট কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই বর্তমান শাসন কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এ উদ্যোগ ফিলিস্তিনি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ফাতাহর কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই হামাস উপত্যকাটি পরিচালনা করে আসছিল। তবে গত অক্টোবরে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সংগঠনটি একাধিকবার জানিয়ে আসছিল, তারা দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত। যদিও হামাসের নিরস্ত্রীকরণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হামাসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, গাজার শাসন কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেওয়া হবে, যিনি নতুন জাতীয় কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবেন।
হামাসের গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
হামাসের আরেক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি মিসরের রাজধানী কায়রোয় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক উপদলকে এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই হামাসের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এটিকে ইতিবাচক ও আন্তরিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
হামাসের এই সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা আলী শাথের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)-এর প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে চলমান রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন গতি আনতে পারে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন