বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ১১:২৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ঢাকাসহ ১৬ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের আবহাওয়া আরও বৈরী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৬টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা থাকায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ভারী বৃষ্টিপাতের বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

অধিদপ্তরের মতে, এ ধরনের ভারী বর্ষণের ফলে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় লঘুচাপে পরিণত হয়েছে এবং এটি আরও দুর্বল হতে পারে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্য বেশি থাকায় সাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান বর্ষণ অব্যাহত থাকলে দেশের নিম্নাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। তাই আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন