প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ০৪:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
টানা অতিবৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মাঠ প্রশাসনের সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। সভায় দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জন এবং মাঠ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।
সভায় বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতি, জলাবদ্ধতা, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতির সুযোগ নেই। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন তিনি।
দুর্যোগকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো অসাধু চক্র যেন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, সেখানে জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এছাড়া রংপুর বিভাগেও নতুন করে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন