প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১১:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গাইবান্ধায় পুকুরে গোসল করতে নেমে তর্কের জেরে বন্ধু রাহাতকে (১৫) পানিতে চুবিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এতে অভিযুক্ত দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ একটি টিম।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) রাতে ঢাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এরআগে, গত ১৬ জুন বিকেলে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণসিংহা গ্রামের হাওয়াই দিঘির মোড় নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার দুই কিশোর হলো- সদর উপজেলার উত্তর হরিণসিংহা গ্রামের জবান আলীর ছেলে সাকিব (১৫) ও সাইদুল ইসলামের ছেলে রিফাত (১৫)।
এছাড়া হত্যার শিকার রাহাত (১৫) হরিণসিংহা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন ঘটনার পর থেকেই সাকিব ও রিফাত পলাতক ছিলেন। গতকাল (১১ জুলাই) রাতে র্যাব ও পুলিশের যৌথ একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযানে প্রথমে ঢাকার খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে রিফাতকে আটক করা হয়।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গতকাল রাতে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই আসামিকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের গাইবান্ধায় আনার প্রক্রিয়া চলছে
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুন বিকেলে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণসিংহা গ্রামের হাওয়াই দিঘির মোড়ে একটি পুকুরে গোসল করতে নামে তিন বন্ধু সাকিব, রিফাত ও রাহাত। গোসলের সময় তর্কের একপর্যায়ে সাকিব ও রিফাত মিলে রাহাতকে পানিতে চুবিয়ে রাখে। এতে তার মৃত্যু হয়। পরে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রাহাতকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ মরদেহ থানায় নেয়।
এদিকে, এ ঘটনার পরদিন ১৭ জুন সকালে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণসিংহা গ্রামের অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুরের তাণ্ডব চালায় নিহতের বিক্ষুব্ধ পরিবার-স্বজনরা।
এদিন সকাল ৮টার দিকে নিহত কিশোরের পরিবার, ওয়ারিশ ও বিক্ষুব্ধ স্বজনরা বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। বিক্ষুব্ধরা বাড়ি-ঘরের ভিতরে ঢুকে থালা-বাসনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।
পরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে আশপাশের বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়দের বাধার মুখে ব্যর্থ হয়। এদিন ভাঙচুরকারীরা প্রথমে জবান আলী ও পরে সাদেকুলের বাড়িতে ভাঙচুর করে।
পরবর্তীতে ১৯ জুন এ ঘটনায় নিহত রাহাতের বাবা বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় ওই দুইজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মন্তব্য করুন