প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০৫:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং খেলাপি ঋণ কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে সরকার বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) ডাটাবেজে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এই হিসাব অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার কমিয়ে আনা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় শ্রেণীকৃত ঋণের হার কমাতে ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি-সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদের কাজ চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাংকিং খাতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস-৯) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিজস্ব মূল্যায়নের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণের বিপরীতে থাকা জামানতের মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা হালনাগাদ, খেলাপি ঋণ আদায়ে কর্মকর্তাদের বিশেষ ভাতা প্রদান, এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে বিদ্যমান প্রণোদনা নীতিমালা আধুনিকায়নের কাজও চলমান রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, একজন ঋণগ্রহীতা পুরো ব্যাংকিং খাত থেকে সর্বোচ্চ কত ঋণ নিতে পারবেন, সেই সীমা নির্ধারণে আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, অর্থঋণ আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের সম্পৃক্ত করা, ঋণ আদায় কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতায় ফেলার উদ্দেশ্যে দায়ের করা রিট মোকাবিলায় আইনগত সংস্কার এবং বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে 'ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় 'আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬' প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন সংশোধনের মাধ্যমে চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও কার্যকর করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, শক্তিশালী আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ ব্যাংক রেজল্যুশন ব্যবস্থা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার সমন্বিত উদ্যোগ দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং আর্থিক খাতকে আরও স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন