প্রকাশিত: ১৯ ঘন্টা আগে, ০৯:১২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের জন্য জারি করা ভ্রমণ সতর্কতা এক ধাপ কমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশকে ‘লেভেল-৩’ থেকে ‘লেভেল-২’-এ নামিয়েছে দেশটি। এর ফলে আগের তুলনায় বাংলাদেশ ভ্রমণে ঝুঁকি কমেছে বলে বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরপরই ভ্রমণ সতর্কতার এই পরিবর্তনের খবর আসে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের এখন আগের চেয়ে তুলনামূলক কম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ‘লেভেল-২’ সাধারণত ভ্রমণকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়; বিপরীতে ‘লেভেল-৩’ পর্যায়ে ভ্রমণ পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে সার্জিও গর টেক্সট বার্তার মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা পরিবর্তনের বিষয়টি অবহিত করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে ‘লেভেল-২’-এ নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা বাড়ার প্রতিফলন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি করেছে। নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাবই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছে ঢাকা।
সরকারের মতে, ভ্রমণ সতর্কতা কমানোর এই সিদ্ধান্ত শুধু পর্যটন খাতের জন্য নয়, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ কোনো দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি সরকারের সতর্কতা সরাসরি পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে সতর্কতার মাত্রা কমলে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
ঢাকা মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক অংশীদার হওয়ায় দেশটির এমন ইতিবাচক মূল্যায়নকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার ধারাবাহিকতায় ভ্রমণ সতর্কতার মাত্রা কমানোর সিদ্ধান্ত একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আস্থা বাড়াতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন