প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে। তারা কাজী ফার্মস লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করে প্রায় ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ২৫৬ টাকার গমের ভুসি আত্মসাৎ করেছেন। যারা আটক হয়েছেন তারা হলেন— পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম এবং একই উপজেলার দোদারিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে খালেক সরদার। মনিরুল ইসলামকে যশোরের নাজির শংকরপুর এলাকা এবং খালেক সরদারকে পুরাতন কসবা এলাকা থেকে আটক করা হয়।
আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা জেলার পুটে বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হলে চক্রের আরেক সদস্য আবুল বাসার পালিয়ে যান। তবে সেখান থেকে আত্মসাৎ করা গমের ভুসির একটি অংশ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রয় করা গমের ভুসির নগদ ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা, ৭৭ বস্তা গমের ভুসি, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৭টি মোবাইল ফোন, ৫১টি সিমকার্ড, ২টি ল্যাপটপ, ১টি মোটরসাইকেল এবং স্বর্ণের গহনা উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই প্রতারক চক্রটি যশোরের কাজী ফার্মস লিমিটেডের ম্যানেজার ও পরিচালক পরিচয়ে চুয়াডাঙ্গার মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মানিক কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা প্রতি কেজি ৩২ টাকা দরে মোট ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভুসি ক্রয়ের চুক্তি করে। পরে, ২২ ও ২৫ জুলাই দুই দফায় পাঁচটি ট্রাকে করে সরবরাহ করা গমের ভুসি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি বাজার সংলগ্ন কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনের সড়ক থেকে খালাস করে আত্মসাৎ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে প্রতারক চক্রটি আরও ৩০ হাজার টাকা ধার দাবি করলে ব্যবসায়ীর সন্দেহ হয়। এরপর তিনি কাজী ফার্মস লিমিটেডের যশোর কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো গমের ভুসির অর্ডার দেওয়া হয়নি এবং প্রতারকরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছে। পরে তিনি যশোর জেলা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর, যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এসআই দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুই প্রতারককে আটক এবং আত্মসাৎ করা মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন