বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫৩ মিনিট আগে, ১১:৫১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

গোপন বিমান বদল ঘিরে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ছবি; সংগৃহিত

প্রাণনাশের হুমকির কারণে ট্রাম্প গোপনে বিমান বদল করেছিলেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের খবর প্রকাশের পর মঙ্গলবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, খাবার সরবরাহের ট্রাকে করে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে অন্য একটি বিমানে গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চেয়েছিল আমি অন্য একটি ফ্লাইটে, অন্য একটি বিমানে যাই। নিরাপত্তা একই ছিল। কিন্তু তারা আমাকে যেতে বলেছিল, তাই আমি গেছি। তারা যা বলে, আমি তা-ই করি।’
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মনে হয় কোনো হুমকি ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি খুব বেশি কিছু জানতে চাইনি।’
পত্রিকাটি সোমবার জানায়, ৮ জুলাই তুরস্কে অবস্থানের সময় এয়ার ফোর্স ওয়ান উড্ডয়নের আগে গোপন অভিযানে ট্রাম্পকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিমানটিতে সাংবাদিক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিলেন। তারা বিমানেই থেকে যান। ফলে ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে তারাও ছিলেন।
বিমানটি তুরস্কে মাটিতে থাকা অবস্থায় ট্রাম্প গোপনে সেটি থেকে বেরিয়ে যান।
ভ্রমণকারী কয়েকজন সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, অজান্তেই তাদের ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিমূলক লক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যরা হোয়াইট হাউসের প্রতারণা এবং তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ করেন।
ভিডিও ক্যামেরা ও আলোকচিত্রীদের সামনে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের বিমানে ওঠেন। এএফপির ছবিতে বিমানের সামনের ও পেছনের দিকে দুটি সরবরাহের কনটেইনার দেখা যায়।
তবে পরে জানা যায়, ট্রাম্প বিমানটি থেকে বেরিয়ে একটি কার্গো কনটেইনারের ভেতরে ওঠেন। সেখান থেকে কাছেই থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীর ছোট একটি বিমানে ওঠেন তিনি।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসলে আমি যে বিমানে উড়েছি, সেটিই বেশি ঝুঁকিতে ছিল বলে মনে করি। কারণ আমার ধারণা, তারাই ওই বিমানটিকে বেশি লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করত।’
এয়ার ফোর্স ওয়ানের পৃথক অংশে ভ্রমণকারী প্রায় এক ডজন সাংবাদিক প্রেসিডেন্টের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাননি। তারা বিমান বদলের বিষয়টি জানতেন না। ইরানের সম্ভাব্য হুমকি থাকা সত্ত্বেও তারা ওই বিমানেই তুরস্ক ত্যাগ করেন। বর্তমানে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো প্রেসিডেন্টেরই অনেক হুমকি থাকে।’
তিনি উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কোনো কিছু নিয়েই চিন্তা করি না। যা হওয়ার হবে—এটাই আমার মনোভাব।’
কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি?-
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইল সতর্ক করে । পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ও কর্মীরা তখনও বিমানটিতে ছিলেন।
বিমানটিতে থাকা সাংবাদিকদের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নের সময় জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সিক্রেট সার্ভিস। যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে এমন নির্দেশ অস্বাভাবিক।
সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার মঙ্গলবার কংগ্রেসকে ‘প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইরানের হুমকি এবং তাকে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নিতে নেওয়া অসাধারণ পদক্ষেপ’ সম্পর্কে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কাতারের উপহার দেওয়া বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭ বিমানে ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যাওয়ার পর থেকেই তার সফর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিমানটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনের উপযোগী করে সংস্কার করা হলেও এতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বলে জানা গেছে। এ কারণে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কাজে লাগানো হয়।
সে সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, নতুন বিমানটি ব্রিটেনে মার্কিন সেনাদের দেখানোর জন্য আগেই পাঠানো হচ্ছে। তিনি এটিকে সেনাদের জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্রিটেনে যাত্রাবিরতির পর ওয়াশিংটনে ফেরার জন্য তিনি আবার কাতারের দেওয়া বিমানে ওঠেন।
সেসময় সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হলে এর কারণ জানতে চান তারা। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আপনারা সম্ভবত একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে আছেন। কারণ আমাদের যেসব নোংরা লোকের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়, তাদের জন্য।’
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি গেলে আপনারাও যাবেন। তাই তো?’
২০০০ সালে ভারত থেকে পাকিস্তান যাওয়ার পথে শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের বিমান বদল করেছিলেন বিল ক্লিনটন। সে সময় সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের বহনকারী একটি ডিকয় বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল।
২০২৩ সালে ইউক্রেন সফরের সময় জো বাইডেনের যাত্রাও কঠোর গোপনীয়তায় রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ বিমান ও ট্রেন যাত্রার ওই সফরে অবশ্য একজন প্রতিবেদক ও একজন আলোকচিত্রী তার সঙ্গে ছিলেন।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন