বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:০৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ সফরে ভারতের অনুমতির অপেক্ষায় বিসিসিআই

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সফর নিয়ে এবার ভারত সরকারের দ্বারস্থ হতে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)। দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত সফর নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে না গিয়ে সরকারের অনুমোদন ও স্পষ্ট নির্দেশনা চাইবে ভারতীয় বোর্ড।

বিসিসিআইয়ের একটি শীর্ষ সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সফর নিয়ে বোর্ড এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। পুরো বিষয়টি এখন অনেকটাই ভারত সরকারের অবস্থান ও নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ সফর নিয়ে বোর্ড কাজ করছে এবং শিগগিরই সরকারের অনুমতি ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা চাওয়া হবে। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।

বিসিসিআই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সফর নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতোমধ্যে ভারতীয় বোর্ডকে চিঠি দিয়েছে। দুই বোর্ডের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগও হচ্ছে। ফলে সফরের বিষয়ে দ্রুতই একটি পরিষ্কার সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৯ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ভারতের। সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে দুই দলের। ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর ওয়ানডে এবং ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আয়োজনের সূচি রাখা হয়েছে। ভারতীয় দলের ২৮ আগস্ট বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা।

তবে নির্ধারিত এই সূচি এখনো চূড়ান্ত নয়। ভারত সরকারের অনুমোদন ও নির্দেশনার ওপরই সফরটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে সাম্প্রতিক অস্বস্তির পেছনে রয়েছে একাধিক ঘটনা। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে বিতর্ক।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) আইপিএল ২০২৬-এর দল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় বিসিসিআই। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজুরকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। ওই নিলামে তিনিই ছিলেন একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার।

পরে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে মুস্তাফিজুরকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। বোর্ডের সম্পাদক দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছিলেন, দুই দেশের ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’ বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর কিছুদিন পর নিরাপত্তা শঙ্কা এবং বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শের কথা উল্লেখ করে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আবেদন জানায় বিসিবি। তবে সেই অনুরোধ আমলে নেওয়া হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপেও অংশ নেয়নি বাংলাদেশ।

মুস্তাফিজ ইস্যুর প্রভাব শুধু দুই দেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ওই বিতর্কের পর বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার ও প্রচারণার ওপর অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশও দেওয়া হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে ভারতের বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল। পরে আন্তর্জাতিক সূচি ও দুই দলের ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে সফরটি পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নেওয়া হয়। তবে পরিবর্তিত সূচির পেছনে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের টানাপোড়েনও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে সামনে আসে।

এবারের প্রস্তাবিত সফর তাই শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়; বরং সাম্প্রতিক অস্বস্তি কাটিয়ে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি বড় পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সফর আয়োজনের বিষয়ে বিসিবি নিয়মিতভাবে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। অন্যদিকে ভারতীয় বোর্ড সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকায় এখন সবার নজর নয়াদিল্লির দিকে।

সফরটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ালে সেটি দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। আর সফরটি স্থগিত বা বাতিল হলে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। ফলে সেপ্টেম্বরের এই সিরিজ এখন শুধু ক্রিকেটের সূচি নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের ক্রীড়া-কূটনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষা।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন