বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৩১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থায় বড় রদবদল, নেতৃত্বে রেজায়ি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে (এসএনসিসি) বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী বা সচিব পদে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়িকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদায়ী সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদরকে নিজের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

রোববার পৃথক বার্তায় জোলগাদরকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোজতবা খামেনি। নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জোলগাদরের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানান।

এর কাছাকাছি সময়েই এসএনসিসির নতুন সচিব হিসেবে মোহসিন রেজায়ির নিয়োগপ্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দপ্তর। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র মেহদি তাবাতাবয়েই এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদরের পদত্যাগ ও নতুন দায়িত্বে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মোহসিন রেজায়িকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন প্রধান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

৭১ বছর বয়সী মোহসিন রেজায়ি ইরানের ক্ষমতাকাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা একজন প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন তিনি।

গত মার্চে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন। এরপর রেজায়িকে তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এবার তাকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কাঠামোর নেতৃত্বে আনা হলো।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে রেজায়ির এই নিয়োগকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গত জুলাইয়ে এক বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ কয়েক ডজন পরমাণু বোমার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে মোজতবা খামেনির নতুন রাজনৈতিক উপদেষ্টা মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদরও ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর পরিচিত মুখ। অবসরপ্রাপ্ত এই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আইআরজিসির ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত জুনে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর তিনি অস্থায়ীভাবে এসএনসিসির নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেন।

নতুন দায়িত্ব বণ্টনের মধ্য দিয়ে ইরানের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামোয় অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তাদের প্রভাব আরও দৃশ্যমান হলো। রেজায়ি ও জোলগাদর দুজনই কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত এবং সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে বিবেচিত।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত এবং ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনশীল বাস্তবতার মধ্যে এসএনসিসির নেতৃত্বে এই রদবদল দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে আইআরজিসির সাবেক প্রধান রেজায়িকে এসএনসিসির নেতৃত্বে আনা ইরানের নিরাপত্তা নীতিতে সামরিক অভিজ্ঞতার গুরুত্ব আরও বাড়ার ইঙ্গিত বহন করছে।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন