বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৬:৪৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামে পুলিশ পরিচয়ে দুই প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি

ছবি; সংগৃহিত

চট্টগ্রামের পটিয়ায় গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে দুই প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতদল। এ সময় একটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও নিয়ে যায় তারা। রোববার (৩০ আগস্ট) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের পূর্ব আজিমপুর আলী মিয়ার বাপের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাড়িটি প্রবাসী মোহাম্মদ সিরাজ ও মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ‘প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা শুনেছি। তবে এখনো ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রবাসী নুরুল ইসলামের বাবা মোহাম্মদ সিরাজ পেশায় কৃষক। রাতে বাড়ির পাশে ফসল পাহারা দিতে তিনি ঘর থেকে বের হন। এ সময় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ডাকাতদল ঘরে ঢোকে। প্রথমে নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দেয় তারা। পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাট শুরু করে।
ডাকাতদল ওই বাড়ি থেকে প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট করে। পরে নুরুল ইসলামের মা রাজিয়া বেগমের গলায় ছুরি ধরে পাশের প্রতিবেশী সিরাজের ঘরের দরজা খুলতে বাধ্য করে তারা। ওই ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে আরও প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করে ডাকাতদল। পরে দ্বিতীয় তলায় সংরক্ষিত সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও নিয়ে যায় তারা।
প্রবাসী নুরুল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘তারা প্রথমে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়। পরে আমি বুঝতে পারি, তারা ডাকাত। তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করলে আমাকে চড়-থাপ্পড় দিতে শুরু করে। তাদের সবার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র ছিল।’
স্থানীয় বাসিন্দা ফাহিম বলেন, ডাকাতদল চলে যাওয়ার পর প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম তাদের বাড়িতে এসে ডাকাতির খবর দেন। পরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।

স্থানীয়রা জানান, ডাকাতদল এলাকায় প্রবেশের সময় চাকরি থেকে ফেরার পথে স্থানীয় পিকআপচালক তারেককেও জিম্মি করে। ডাকাতির খবর যাতে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য তাকে জিম্মি করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে পটিয়ায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন