প্রকাশিত: ৫২ মিনিট আগে, ০৩:৫৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
ডেপুটি স্পিকার রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সম্প্রতি চীনের ইউনান প্রদেশে নিজের সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি সেখানে পাওয়া উষ্ণ আতিথেয়তা, আন্তরিকতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের বিদ্যমান ও নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার অবদানকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন।
ডেপুটি স্পিকার, বাংলাদেশ এবং চীন উভয় দেশের জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করে যেতে চায়। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালীকরণ, জনগণের সার্বিক জীবনযাত্রার উন্নয়ন, প্রযুক্তি খাত এবং স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের কার্যকর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের চীন সফরের মাধ্যমেই মূলত বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের শক্ত ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। সেই সঙ্গে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার বহুমাত্রিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে। দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ‘বাংলাদেশ-চীন পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে সংসদীয় পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সফর বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে মতবিনিময় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় পক্ষই দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আন্তঃসম্পর্ক আরও জোরদার করার তাগিদ দেন। এছাড়া আলোচনার বিশেষ অংশে মংলা বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং বহুল আলোচিত তিস্তা নদী প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সার্বিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য ডেপুটি স্পিকার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ ও চীনের এই সুদৃঢ় সম্পর্ক আগামীতে আরও নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে।
বৈঠক শেষে বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য ও শুভকামনা জানান ডেপুটি স্পিকার। সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের উপরাষ্ট্রদূতসহ দুই দেশের সংসদ ও কূটনৈতিক বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংরাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন