বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:২২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

দুই বছরেও হয়নি সংস্কার, ঝুঁকিতে সাহেবেরঘাট সেতু

ছবি; সংগৃহিত

দুই বছর ধরে ছোট ফেনী নদীর ওপর নির্মিত সাহেবেরঘাট সেতুর সংযোগস্থলে বারবার সংস্কার করা হলেও যানচলাচল নির্বিঘ্ন করতে পারছে না সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। ঝুঁকি বিবেচনায় সেতুর ওপর ভারী যানচলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ফেনী ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসন। বর্ষায় পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে সংস্কারকাজও বন্ধ রয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সেতু-সংলগ্ন এলাকায় বালু উত্তোলন, মজুত ও পরিবহন চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম খলিল ছিদ্দিকি বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে ব্রিজের ওপর দিয়ে ভারী যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। ব্রিজের দুই পাশের মাটি জোয়ারের কারণে সরে গেছে এবং ব্রিজ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মোস্তফা নামে স্থানীয় এক মাদরাসা শিক্ষক বলেন, ব্রিজের ভাঙা অংশের সংস্কারকাজ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চলমান ছিল। তখন কিছু বালুর বস্তা দিয়ে ভরাট করে ব্রিজের ভাঙা অংশে দেওয়া হয়েছিল। ভাঙা অংশে কয়েক বস্তা বালু ফেলে তার ওপর তেরপাল দিয়ে ঢেকে রেখে কাজ বন্ধ করে চলে যায় তারা। এরপর থেকে প্রায় দেড় মাস ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেও সাহেবেরঘাট সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, সেতু এলাকায় ১৫টির অধিক বালুমহাল রয়েছে। এসব বালুমহালের বালু অন্য স্থান থেকে এনে এখানে স্তূপ করে বিক্রি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গভীর রাতে নির্জন ও নির্দিষ্ট সময়ে বাল্কহেড দিয়ে নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, বালু পরিবহনের কারণে আশপাশের সড়কগুলোও ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি ছোট ফেনী নদীর ওপর নির্মিত সাহেবেরঘাট সেতুও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহেবেরঘাট এলাকায় বালু উত্তোলন, মজুত ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও বর্তমানে নিয়মিত বালুমহালের সব কার্যক্রম সচল রয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এসব বালুমহালের কারণে ইতোমধ্যে তাদের এলাকার রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে গেছে। সেতু এলাকায় অসংখ্য বাল্কহেড রয়েছে, যেগুলো দিয়ে নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এমনিতেই সেতুটি নির্মাণে ত্রুটি রয়েছে এবং পাইলিং ও গভীরতা কম। বালু উত্তোলনের কারণে সেতুটি দিন দিন ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। জনগণের বৃহৎ স্বার্থের কথা বিবেচনা না করে জনবিরোধী বালুমহালকে দায়িত্বশীলরা প্রাধান্য দিচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে মুছাপুর এবং কাজীহাট ব্রিজের মতো এটিও একদিন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে।
সোনাগাজী চরচান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন খোকন বলেন, সেতুটি নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে। তৎকালীন সময়ে নির্মাণাধীন সেতুর গার্ডার ভেঙে পড়ে। সেজন্য যানচলাচলের সময় সেতুটি কেঁপে ওঠে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যা ও ভারী বর্ষণে সেতুর পশ্চিম অংশে বড় গর্ত হয়ে সোনাগাজী ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মধ্যে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় ভাঙনরোধে স্থানীয় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বালুর ব্যাগ ফেলা হয়। পরে কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী সমাধান করায় বারবার সমস্যা দেখা দেয়।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ভারী গাড়ি চলাচলে ফেনীর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যারিয়ার দেওয়া আছে। বর্ষায় পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় সংস্কারকাজ চলমান রাখা সম্ভব হয়নি। পানির স্তর কমে গেলে আবার সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। সেখানে নদীর একদিকে চর জেগে ওঠায় বিপরীত পাশে প্রবাহিত পানি এসে আঘাত করছে। এতেই বিপত্তি হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে একপাশে কাজ শুরু করতে পেরেছিলাম। এজন্য অন্যপাশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারী যানচলাচল বন্ধ থাকায় ছোট যানচলাচলে তেমন চাপ পড়বে না।
তিনি বলেন, প্রথমে জিও টিউব দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গা নিয়ে শিট পাইল দেওয়া হয়েছে। শিট পাইলের ভেতরে আরসিসি পাইলিং এবং সিসি ব্লক দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছি। পানির স্তর কমে গেলে ডিসেম্বর মাসে কাজ শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৫ মার্চ সাহেবেরঘাট সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেনীর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মনিরা হক স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সেতু-সংলগ্ন ছোট ফেনী নদী থেকে বালু উত্তোলন, সরবরাহ, পরিবহন ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং সড়ক বিভাগ ফেনীর মতামতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন