প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৪:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাটের খোলার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) গেটগুলোর ওপেনিং ২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৩ ফুট করা হয়। বর্তমানে এসব গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় রোববার ভোর ৬টার দিকে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ২ ফুট করে খোলা হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় সকালে গেটগুলোর ওপেনিং আরও ১ ফুট বাড়িয়ে ৩ ফুট করা হয়েছে।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়। তখন গেটগুলো দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হচ্ছিল। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে প্রতিটি গেটের ওপেনিং আরও ৬ ইঞ্চি বাড়িয়ে ১ ফুট করা হয়। রোববার ভোরে তা বাড়িয়ে ২ ফুট এবং সকাল ১০টার দিকে ৩ ফুট করা হয়েছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৬টি জলকপাটের ওপেনিং ৩ ফুটই রয়েছে।
হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বাঁধের ওপর চাপ কমানো এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেটগুলোর ওপেনিং বাড়ানো হচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
এদিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট বর্তমানে চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হওয়ায় বর্তমানে হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে মোট প্রায় ৯০ হাজার কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে নিষ্কাশিত হচ্ছে।
ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পানির পরিমাণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ আরও বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্পিলওয়ের গেট দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন হওয়ায় কর্ণফুলী নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। এ কারণে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন