বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬ ঘন্টা আগে, ১২:১৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

খুলনা বৃক্ষমেলায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকার চারা বিক্রি

 জমে উঠেছে মাসব্যাপী খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষমেলা। মেলার স্টলগুলোতে বৃক্ষপ্রেমিদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে স্টলগুলো। কেউ কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে মেলায় আসছেন পছন্দের গাছের চারা কিনতে। বেচাকেনাও মোটামুটি বাড়ছে। তবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, মেলায় গত ৬দিনে ফলদ, বনজ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৮ হাজার ৫৮৪টি চারা বিক্রি হয়েছে। যার মূল্য ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৭০ টাকা।
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাসব্যাপী খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। গত ১১ জুলাই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। 
মেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১০টিসহ মোট ৬২টি স্টল রয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায় স্টলগুলোতে ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ ছিল সরব। সকল বয়সী মানুষের উপস্থিতি বেশি থাকলেও অধিকাংশরা মেলায় এসেছেন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখতে। তবে মেলায় ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি। কেউ কেউ তার প্রিয়জনকে নিয়ে মেলায় এসেছেন ঘুরতে। বিভিন্ন স্টলগুলোতে ক্রেতা ও স্টল মালিকরা যেন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মেলায় আসা রূপসা উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা রূপালী নার্সারির মো. আল-আমিন খাঁ বাসস’কে বলেন, মেলায় ক্রেতারাদের উপস্থিতি বেশ ভালো। তবে, বেচাকেনা একটু কম। তাদের নার্সারীতে বারি ফুট, রেট ক্রিস্টাড জাতের আমের চারা, ভিয়েতনামী জাতের মাল্টাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রয়েছে।
মেসার্স নাজিফা নার্সারির মো. সাকিবুল হাসান বলেন, তার স্টলে শোভাবর্ধণকারী ইয়াডেনিয়াম, গোল্ডেন হুক ক্যাকটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
নিজাম নার্সারির মো. নিজাম শেখ বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে ক্রেতাদের উপস্থিতি আরও বাড়বে। 
বেচাকেনাও ভালো হবে। তার স্টলে থাই বাতাবি লেবু, থাই কদবেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা উঠানো হয়েছে।
কুসুম কানন নার্সারি মো. জাকির হোসেন, গোলাপ কানন নার্সারির শেখ মো. আলাউদ্দিন, অনি নার্সারির মো. রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ নার্সারির মো. আব্দুল মালেক, মেসার্স মৌসুমী নার্সারির গাজী কামরুজ্জামান বাসস’কে বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাভাবিক কেনাবেচায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিক্রি বাড়বে।
নার্সারী মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্টলগুলো পরিপাটি করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ নার্সারীতে পানি জমে থাকায় ফলদ, বনজ, ভেষজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধণকারী গাছের চারা স্টলে উঠাতে বিলম্ব হয়। তবে বর্তমানে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় অধিকাংশ নার্সারিতে সব ধরনের চারা শোভা পাচ্ছে।
খুলনা বৃক্ষমেলার আব্দুল করিম নার্সারির স্টলের সাকিব বলেন, এবারের মেলায় জাপানের পার্সিমন গাছের চারা নিয়ে এসেছি। এই গাছে বছরে দুইবার ফল হয়। বাজারে এ ফল ১৫শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। মেলার আকর্ষণ বাড়াতে ফলসহ চারা নিয়ে এসেছি। প্রথমধাপে মেলায় ২০টির বেশি চারা নিয়ে এসেছি। বেচাকেনার পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে আরও বেশি আনা হবে।
সাকিব বলেন, একটি পার্সিমনের ছোট চারা ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ফলসহ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করছি। এই ফলসহ গাছ দেখতে আসছে মানুষ। মেলায় যেই আসুক না কেন আমাদের স্টলে আসছে। ফলসহ গাছ দেখে সেলফি তুলছে, ভিডিও নিচ্ছে। দাম শুনছে। আশা করি এবার ভালো বিক্রি হবে। মেলায় শুধু পার্সিমনের চারাই নয়, দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছ আনা হয়েছে।
খুলনা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি বদরুল আলম রয়েল বাসস’কে বলেন, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৃক্ষমেলা হচ্ছে খুলনায়। মেলায় পার্সিমনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। যা মেলায় আগত বৃক্ষপ্রেমীদের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। মেলার শোভাও বাড়িয়েছে।
মেলায় বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেন বাসস’কে জানান, মেলায় বৃক্ষপ্রেমীদের আনাগোনা বাড়ছে। বেচা-কেনাও বেড়েছে।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলার প্রথম দিন ৫০ হাজার ৮১০ টাকা মূল্যের ৩৭০টি চারা বিক্রি হয়েছে। দ্বিতীয় দিনে ফলদ, বনজ, ওষুধি, শোভাসহ অন্যান্য ১ হাজার ৯৩টি চারা বিক্রি হয়, যার মূল্য ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৬০ টাকা। মেলার চতুর্থ দিনে ফলদ, বনজ, ওষুধি, শোভা, ফুলসহ অন্যান্য ২ হাজার ২২৫টি চারা বিক্রি হয়, যার মূল্য ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৫০ টাকা। পঞ্চম দিনে বনজ ১৪৫টি, ফলদ ৫৭৯টি, ঔষধি ৯৭টি, শোভাবর্ধনকারী ৪৯টি ফুলের ৪২২টি ও অন্যান্য ১৩৫টি গাছের চারা বিক্রি হয়।
সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মেলায় গত ৬দিনে ফলদ, বনজ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৮ হাজার ৫৮৪ টি চারা বিক্রি হয়েছে। যার মূল্য ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৭০ টাকা।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে জেলা প্রশাসন ও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে। মাসব্যাপী এই মেলা চলবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন