শারমিন আহমেদ

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৫৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

সেমিফাইনাল মানেই আর্জেন্টিনার জয়!

৯২ বছর ধরে অটুট আলবিসেলেস্তেদের অবিশ্বাস্য আধিপত্য

বিশ্বকাপের মঞ্চে সেমিফাইনাল যেন আর্জেন্টিনার জন্য এক বিশেষ অধ্যায়। এই ধাপে পৌঁছানো মানেই প্রায় নিশ্চিত জয়- এমন একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা টানা ৯২ বছর ধরে ধরে রেখেছে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তিটি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। নাটকীয় লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত সাতবার সেমিফাইনাল খেলেছে এবং প্রতিবারই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। অর্থাৎ, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তাদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড এখনও অক্ষুণ্ন। ১৯৩৪ সালের পর থেকে এই পর্যায়ে আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারেনি কোনো দল।

এই অসাধারণ যাত্রার শুরু ১৯৩৪ বিশ্বকাপে। সেবার সেমিফাইনালে জার্মানিকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। এরপর দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে হারিয়ে আবারও ফাইনালে ওঠে দলটি। সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার জোড়া গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির নেপলসে স্বাগতিক ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টানা ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। এরপর ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপেও একইভাবে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে লিওনেল মেসির দল।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। সেই বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে তারা।

আর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা আরও সমৃদ্ধ করল আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের জয়সূচক গোলে নিশ্চিত হয় আরেকটি ফাইনালের টিকিট।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সাফল্য শুধু জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিটি যুগেই তারা পেয়েছে একজন করে মহানায়ক। ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে ছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা, ২০১৪, ২০২২ ও ২০২৬-এ নেতৃত্ব দিচ্ছেন লিওনেল মেসি। আর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজের মতো তারকারাও দলকে এনে দিয়েছেন ঐতিহাসিক সাফল্য।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সবচেয়ে সফল দলগুলোর তালিকায় আর্জেন্টিনার এই শতভাগ সাফল্য এক অনন্য নজির। ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি কিংবা ফ্রান্সের মতো পরাশক্তিরাও সেমিফাইনালে একাধিকবার হারের স্বাদ পেয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা এখনও পর্যন্ত সেই হতাশা দেখেনি।

এখন আলবিসেলেস্তেদের সামনে আরেকটি ইতিহাস গড়ার সুযোগ। ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেনকে হারাতে পারলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে তারা। একই সঙ্গে সেমিফাইনালে ৯২ বছরের অজেয় ধারার মতো ফাইনালেও নিজেদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য থাকবে মেসি ও তার সতীর্থদের।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল রেকর্ড

  • ১৯৩৪: জার্মানিকে হারিয়ে ফাইনাল
  • ১৯৮৬: বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল
  • ১৯৯০: ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনাল
  • ২০১৪: নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনাল
  • ২০২২: ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল
  • ২০২৬: ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল

সেমিফাইনালের মঞ্চে আর্জেন্টিনার গল্প তাই শুধুই জয়ের গল্প। প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে তারকা, বদলেছে কোচ- কিন্তু একটি বিষয় অপরিবর্তিত থেকেছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আলবিসেলেস্তেরা মানেই ফাইনালের টিকিট।


বাংলাধারা/এএস

মন্তব্য করুন