বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১ ঘন্টা আগে, ০৫:৩৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে গণআন্দোলন, প্রয়োজনে গণঅভ্যুত্থান: নাহিদ

ছবি: সংগৃহীত

গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে সরকারকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করে, তাহলে গণআন্দোলন থেকে প্রয়োজনে গণঅভ্যুত্থানের পথেও যেতে বাধ্য হবে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ বরিশালে আমরা সমবেত হয়েছি। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তারপর দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আমাদের কর্মসূচি চলবে। এর মধ্যেও যদি সরকার গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে আমরা গণআন্দোলন এবং প্রয়োজনে গণঅভ্যুত্থানের দিকেও যেতে বাধ্য হব।’

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বিরোধী জোট কোনো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেনি।

‘আমরা এখনো হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দিইনি। তবে প্রয়োজন হলে সেই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। আমরা এমন পরিস্থিতি চাই না। কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে ধীরে ধীরে সেদিকেই ঠেলে দিচ্ছেন,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। কিন্তু মুখে এক কথা বললেও কাজে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। গণভোটের আগে তিনি জুলাই সনদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। অথচ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়ার পরও সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। একদিকে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তা কার্যকর করা হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় আমাদের একটি স্লোগান ছিল, "নাটক কম করো প্রিয়"। আজও একই কথা বলছি। বাংলাদেশের মানুষ সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য, প্রতারণা কিংবা ছলনার জন্য নয়।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন