প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০৫:১০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম আর নেই। ৭১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা।
সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে নির্বাচিত দীর্ঘদিনের এই রিপাবলিকান সিনেটরের কার্যালয় স্থানীয় সময় শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যু হয়েছে। এ কঠিন সময়ে তাঁর পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন গ্রাহাম। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নীতির অন্যতম সমর্থক ছিলেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প ও বাইডেন, উভয় প্রশাসনের ওপর ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
গ্রাহামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “লিন্ডসে ছিলেন একজন মহান মানুষ। তিনি সবসময় নিজের দেশের স্বার্থে কাজ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমেরিকা একজন নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিককে হারাল। তাঁর অভাব গভীরভাবে অনুভূত হবে।”
ইসরায়েলের অকুণ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম। মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে তিনি বরাবরই ইসরায়েলের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “ইসরায়েল তার অন্যতম সেরা বন্ধুকে হারিয়েছে।” এক শোকবার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, লিন্ডসে গ্রাহাম সবসময় বিশ্বাস করতেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, “ইসরায়েল তার অন্যতম সেরা বন্ধুকে হারিয়েছে, আর আমি হারালাম একজন ব্যক্তিগতভাবে প্রিয় বন্ধুকে। তাঁর অবদান ও বন্ধুত্ব আমরা সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব।”
লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং রিপাবলিকান রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন