প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ১২:২৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আগামী রোববার বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে যখন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির বিপক্ষে মাঠে নামবেন, তখন সেটি হবে এক অর্থে গুরু বনাম শিষ্যের লড়াই।
নয় বছর আগে স্কালোনি ছিলেন কোচিং পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখা একজন সাবেক পেশাদার ফুটবলার। ২০১৭ সালে তিনি মাদ্রিদের উপকণ্ঠের লাস রোসাসে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রো কোচিং লাইসেন্সের কোর্স করছিলেন।
সেই কোর্সে তাঁর শিক্ষক ছিলেন লুইস ডি লা ফুয়েন্তে।
এরপরের বছরগুলোতে দুজনই আন্তর্জাতিক ফুটবলে সফল কোচ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
৪৮ বছর বয়সী স্কালোনি ২০১৮ সালের আগস্টে প্রথমে অন্তর্বর্তীকালীন ভিত্তিতে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেন। ডি লা ফুয়েন্তের ক্লাসে কোচিং শেখার এক বছরেরও কম সময় পর তিনি এই দায়িত্ব পান।
এরপর সাবেক দেপোর্তিভো লা করুনা খেলোয়াড় স্কালোনি আর্জেন্টিনাকে সাফল্যের এক স্বর্ণযুগে নিয়ে গেছেন। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জিতে তিনি আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের বড় শিরোপা খরা ঘোঁচান। এরপর আসে সর্বোচ্চ সাফল্য- ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়। ২০২৪ সালে দলটি আরও একটি কোপা আমেরিকার শিরোপাও জেতে।
একই সময়ে ডি লা ফুয়েন্তেও স্প্যানিশ ফুটবলের পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছেন। তাঁর অধীনে ‘লা রোহা’ এখন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের দ্বারপ্রান্তে, যা ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পাশে আরেকটি সোনালি অধ্যায় যোগ করতে পারে।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে শেষ ষোলো থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পর স্পেনের কোচের দায়িত্ব পান ৬৫ বছর বয়সী ডি লা ফুয়েন্তে। এরপর তিনি স্পেনকে আবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষ সারিতে ফিরিয়ে এনেছেন।
২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে রোমাঞ্চকর শিরোপা জয়ের পর গত বছর দলকে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালেও তুলেছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে স্পেনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ডি লা ফুয়েন্তেকে এখন বিশ্বকাপ জয়ের একেবারে দোরগোড়ায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয়ে ফাইনালের আগে স্কালোনি ও ডি লা ফুয়েন্তে দুজনই একে অপরের সম্পর্কে আন্তরিক প্রশংসা করেছেন।
বুধবার ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের পর স্কালোনি ডি লা ফুয়েন্তেকে নিয়ে বলেন, “তিনি ছিলেন আমার পরামর্শদাতা। আমি যা জানি, তার সবই তিনি আমাকে শিখিয়েছেন। আর এখন আমরা একটি বিশ্বকাপ ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছি। কাতার বিশ্বকাপের পর কোচদের একটি সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়েছিল। তিনি তাঁর দল নিযয় অসাধারণ কাজ করেছেন। তাঁর জন্য আমি সত্যিই আনন্দিত।”
খেলোয়াড়ি জীবনের বেশির ভাগ সময় স্পেনে কাটানো স্কালোনির দেশটির সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্কও গভীর। তাঁর স্ত্রী এলিসা মনতেরো স্প্যানিশ। দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁদের বসবাস মায়োর্কায়।
তবে রোববারের ফাইনালে ডি লা ফুয়েন্তের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক থাকলেও নিজের আনুগত্য নিয়ে স্কালোনির কোনো দ্বিধা নেই, ‘‘সবাই জানে আমি স্পেনে থাকি এবং আমার পরিবার স্প্যানিশ। তারপরও আমি ডি লা ফুয়েন্তেকে হারানোরই চেষ্টা করব। তিনি মাঠে দল পরিচালনার ধরন এবং একজন মানুষ হিসেবে- দুই দিক থেকেই আমার সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করেছেন।”
ডি লা ফুয়েন্তেও তাঁর সাবেক ছাত্রের প্রশংসা করে বলেন, “লিওনেলের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে সে সবকিছু জিতেছে। তার অনেক চিন্তাধারার সঙ্গে আমি একমত। পেশাগত ও ব্যক্তিগত- দুই ক্ষেত্রেই আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। সে অসাধারণ একজন মানুষ।
“লিওনেল খুবই পরিশ্রমী ছাত্র ছিল। শেখার প্রতি তার দারুণ আগ্রহ এবং ইতিবাচক মনোভাব ছিল। তার মধ্যে সব সময় নিজেকে আরও উন্নত করার তাগিদ দেখেছি। তার শিক্ষক হতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের। তবে সবকিছুর আগে সে আমার বন্ধু। আমাদের মধ্যে এখনো দারুণ সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা পরস্পরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও প্রশংসা পোষণ করি।”
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন