বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:৪২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বিল থেকে গেট পাস—সবই অনলাইনে, স্মার্ট পোর্ট হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর

ছবি; সংগৃহিত

একটি বিল পরিশোধ থেকে শুরু করে পণ্যবাহী ট্রাকের বন্দরে প্রবেশ, কনটেইনার ডেলিভারি, জাহাজের ছাড়পত্র কিংবা নিলামে পণ্য বিক্রি—চট্টগ্রাম বন্দরের এসব কাজে কমছে কাগজ ও সরাসরি দাপ্তরিক যোগাযোগ। এবার পুরো ব্যবস্থাটিই একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্পূর্ণ পেপারলেস ও স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এরই মধ্যে বন্দরের শতভাগ ভেসেল বিল অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। কন্টেইনার ও কনসাইনি বিলও টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মাধ্যমে তৈরি ও আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ই-গেট পাস, গেট ইন-আউট, ভেসেল ই-এনওসি, অনলাইন কার্ট টিকিট ও টাইম স্লট ব্যবস্থাপনাও ডিজিটাল করা হচ্ছে। অর্থাৎ পণ্য খালাসের পুরো প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে কমছে ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ।
বন্দরের কর্মকর্তারা জানায়, নবনির্মিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বুথ স্থাপন এবং এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে যেকোনো সময় অনলাইনে পেমেন্টের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে ছুটির দিন কিংবা অফিস সময়ের বাইরেও বন্দরের মাশুল পরিশোধের সুযোগ থাকবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মাশুল পরিশোধ না হলে অটো পুল পেমেন্ট সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্তও হয়েছে।
শুধু পেমেন্ট নয়, পণ্য খালাসের পরবর্তী ধাপও স্বয়ংক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। টিওএসে অনলাইনে স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট অনুমোদন, এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআইয়ের মাধ্যমে অকশন ডেলিভারি এবং ব্রেকবাল্ক অপারেশন অনলাইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন্দরের যানজট কমানোর ক্ষেত্রেও ডিজিটাল ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। টিওএসের নতুন সংস্করণে ড্রপ টিকিট, পিকআপ টিকিট ও ইআইআর ই-গেট পাসের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে কোন ট্রাক কখন বন্দরে ঢুকবে এবং কোন পণ্য নিয়ে বের হবে, সেটি আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বে টার্মিনালে স্লটভিত্তিক ম্যাপিং করে পেমেন্টভিত্তিক ট্রাক পার্কিং টিকেটিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বন্দরের বিভিন্ন সেবায় অটোমেশন ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর ফলে কার্যক্রমে দক্ষতা ও গতি বাড়ছে। এনসিটির কার্যক্রম হস্তান্তরের পর দক্ষতা ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়েছে এবং ‘সিপিএ স্কাই’ ও প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসের মতো ডিজিটাল ব্যবস্থাও বন্দরের কার্যক্রমে গতি আনতে ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় বন্দর সেবাকে আরও বেশি ডিজিটাল করার পাশাপাশি যানজট কমানো, রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত করা এবং ব্যবহারকারীদের হয়রানি কমাতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে জুলাইয়ে ডেলিভারি ডকুমেন্টেশনের প্রতিটি ধাপ টিওএসের মাধ্যমে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে ডেলিভারি অর্ডারের আবেদন থেকে চূড়ান্ত গেট আউট পর্যন্ত ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া বাদ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে টিওএসকে কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সঙ্গে রিয়েল-টাইমে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে কাস্টমস কোনো কনটেইনার আটকে দিলে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াও স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় একজন ব্যবহারকারীকে একই কাজের জন্য একাধিক দপ্তর বা ডেস্কে ঘুরতে হবে না। অনলাইনে কোন নথি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটিও জানা যাবে। এতে সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে। অটোমেশনের সবচেয়ে বড় সুফল হবে পুরো সেবা ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। এর ফলে বন্দর ব্যবহারকারীদের সেবা গ্রহণের সময় কমবে, যানজট নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং বকেয়া মাশুল দ্রুত আদায় করা সম্ভব হবে।
ইতোমধ্যে ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো’ চালুর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট পোর্ট ও পেপারলেস ব্যবস্থার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ওই প্ল্যাটফর্মে এক লগইনের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ এবং জাহাজের গতিবিধি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন