প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৩০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মস্তিষ্ককে গুরুতর আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে কী করা উচিত এবং কোন অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলা দরকার? নিউরোসার্জনদের মতে, এ ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা বেশ সহজ। দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি অভ্যাস মেনে চললেই গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাতের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। চিকিৎসকরা বলেন, ই-স্কুটার চালানোর সময় হেলমেট পরা মস্তিষ্ক সুরক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। তারা বলেন, আপনি যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করতে পারেন, তার মধ্যে ই-স্কুটারে হেলমেট পরা সম্ভবত অন্যতম। আমি এটি সব সময়ই দেখতে পাই।
মাথায় গুরুতর আঘাত এড়াতে হেলমেট ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন নিউরোসার্জনরা। একই সঙ্গে অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শও দেন তারা।
চিকিৎসকরা বলেন, আমরা অনেক মানুষকে দেখি, যাদের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের কারণে শেষ পর্যন্ত মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়।
উচ্চ রক্তচাপ কেন মস্তিষ্কের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
উচ্চ রক্তচাপকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে একজন ব্যক্তি নিজের অজান্তেই দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে পারেন। নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখা তাই গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
তারা বলেন, কিছু ধরনের মস্তিষ্কের আঘাতের কারণে একজন মানুষ তার পুরো স্মৃতি হারাতে পারেন। এমনকি নতুন স্মৃতি তৈরি করার ক্ষমতাও হারিয়ে যেতে পারে। পুরোনো স্মৃতি হারানোর পাশাপাশি ব্যক্তিত্বেও পরিবর্তন আসতে পারে।
জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন
মস্তিষ্কের আঘাত এড়ানোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আগেই আলোচনা করার গুরুত্বও তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেন, ‘জীবন খুবই ভঙ্গুর।’ তাই গুরুতর কোনো পরিস্থিতিতে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় না থাকলে কী ধরনের চিকিৎসা বা সিদ্ধান্ত তিনি চান, তা আগে থেকেই পরিবারের সদস্য ও কাছের মানুষদের জানিয়ে রাখা উচিত। চিকিৎসক বা এমন কেউ, যিনি রোগীকে আগে থেকে চেনেন না, জরুরি মুহূর্তের চাপের মধ্যে ওই ব্যক্তির হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করলে বিষয়টি কঠিন হয়ে পড়ে।
আগেভাগে এ ধরনের আলোচনা করে রাখলে আকস্মিক ও জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্য এবং চিকিৎসকদের জন্য রোগীর ইচ্ছা বোঝা সহজ হয়।
সব মিলিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ শুধু মস্তিষ্কের আঘাত এড়িয়ে চলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ, মাথা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা—এই তিনটি বিষয়ই সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন