প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীর যানজট ও দূষণের পাশাপাশি উন্মুক্ত স্থান ও খেলার মাঠের সংকটও নগরবাসীর জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে কম ব্যস্ত সড়কে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ রেখে শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদী হাউজিং সোসাইটির ২ নম্বর সড়কে শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং বাংলাদেশ, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট ও মোহাম্মদী হাউজিং সোসাইটির সম্মিলিত উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণে দেশীয় বিভিন্ন খেলার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল বিস্কুট দৌড়, সুঁই-সুতো দৌড় ও মারবেল দৌড়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ে শিশুদের আগ্রহ বাড়াতে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
আয়োজনস্থলটি দেশীয় পাখি ও বৃক্ষের ছবি দিয়ে সাজানো হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে খেলাধুলা ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার শহরে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস পালিত হয়। ১৯৭০-এর দশকে জ্বালানি সংকটের সময় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ব্যাপকতা লাভ করে। ১৯৯০-এর দশকে এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়।
বাংলাদেশে ২০০৬ সাল থেকে বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে। ২০১৬ সাল থেকে ডিটিসিএর সমন্বয়ে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে গণপরিবহনের উন্নয়ন ও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার কার্যক্রমও বেগবান হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা বলেন, ২০২৬ সালের বিশ্ব গাড়িমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য ‘কম গাড়ি, বাসযোগ্য নগরী’। ব্যস্ত সড়ক ও যান্ত্রিক যানবাহনের আধিক্যের কারণে শিশু-কিশোরদের নিরাপদে বাইরে খেলাধুলার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে সড়ক সাময়িকভাবে এলাকাবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে তারা নিরাপদ পরিবেশে খেলাধুলা ও সামাজিকীকরণের সুযোগ পাবে।
তারা বলেন, পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় এলাকাবাসী, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে কম গাড়িনির্ভর, আরও নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার পথে এটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাই স্কুল, বেঙ্গলি মিডিয়াম হাই স্কুল, মোহাম্মদী হাউজিং সোসাইটি, মোহাম্মদী ইয়ুথ ক্লাব, কারফ্রি সিটিজ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক কারফ্রি সিটিজ অ্যালায়েন্স, রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন