বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৪৩ মিনিট আগে, ০৬:৩৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সরকার ব্যাংকে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে না

ছবি; সংগৃহিত

বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অবিশ্বাস্যভাবে গোয়েন্দা বাহিনীকে ব্যবহার করে ব্যাংক দখলের ঘটনা ঘটেছে, জোর করে শেয়ার লিখে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আরও বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে ব্যাংকগুলোতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। এ উদ্যোগ দেশের ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে৷ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) সভাপতি আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। 
দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার ও ব্যাংকিং সেক্টরের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে কাজ করার জন্য ব্যাংক মালিক ও ব্যাংকার্স নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
প্রতিনিধি দলে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ২৬টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। 

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমরা যখন গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছি, তখন দুর্ভাগ্যক্রমে ক্ষমতাশালীদের সহায়তায় দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ হাজার কোটি টাকা দেশের বাহিরে পাচার হয়ে গেছে।
ব্যাংকিং সেক্টর অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও ভঙ্গুর ব্যাংকিং ব্যবস্থার থেকে উত্তরণ এবং দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর গ্রাহক ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এ সময় সরকার ও সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। 
রাষ্ট্রপতি এ সময় সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে ব্যয়ের জন্য ব্যাংক মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। 
রাষ্ট্রপতি এ সময় নেতাদের নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণসুবিধা নিশ্চিত ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে কাজ করার আহ্বান জানান।  
সাক্ষাৎকালে নেতারা বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি ব্যাংকিং খাত। কিন্তু বিগত সময়ে ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী ব্যাংকের টাকা পাচার করায় হাজার-হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ হয়ে গেছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা দিতে না পারা তাদের জন্য অপমানজনক। 
তারা জানান, দেশের মোট অর্থের মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হয়। সেজন্য তারা ডিজিটাল অর্থনীতি ও কিউআর কোড চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নেতারা ব্যাংকিং খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গ্রাম পর্যায়ে ব্যাংকের শাখা চালু, পরিশোধিত মূলধন ও লভ্যাংশ দেওয়ায় বিদ্যমান নিয়ম বহাল ও আইন-শৃঙ্খলা সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান। তারা ব্যাংকিং সেক্টরের বর্তমান সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। 
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন