ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২

সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে অসত্য সংবাদে কঠোর সতর্কতা, অবমাননার দায় নিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৫, ২০২৬, ০৩:৫৯ দুপুর  

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে আদালত অবমাননার দায় নিতে হবে বলে সতর্ক করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কিত কোনো সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের আগে গণমাধ্যমকর্মীদের অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের মিডিয়া ফোকাল পার্সন অথবা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা যাচাই করতে হবে। এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে কেউ অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করলে তা আদালত অবমাননাকর কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনেরও উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বেঞ্চ না দেওয়ায় আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি ছুটিতে গেছেন—এমন তথ্য টিভি স্ক্রলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের মতে, এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ দেশের সর্বোচ্চ আদালত সম্পর্কে জনমনে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করে এবং সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কিত অসত্য তথ্য পরিবেশন সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। সংবাদ প্রকাশের আগে যদি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি থেকে তথ্য যাচাই করত, তাহলে এ ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা হয়, আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম তাঁর মায়ের অসুস্থতার কারণে ছুটি গ্রহণ করেছেন। আর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফরিদ আহমেদ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় সাময়িকভাবে বিচারকার্যে অংশ নিতে পারছেন না। এই ছুটির সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের কোনো সম্পর্ক নেই।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে, ভবিষ্যতে গণমাধ্যম সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালন করবে।


বাংলাধারা/এসআর