ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২

ইইউ বাজারে বড় ধাক্কা, জানুয়ারিতে পোশাক রপ্তানি কমল ২৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২৬, ০১:২১ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বছরের শুরুতেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে জানুয়ারি মাসে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পোশাক রপ্তানি, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

ইউরোস্ট্যাট-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ইউরোতে। গত বছর একই সময়ে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ইউরো।

এই পতনের পেছনে মূলত দুইটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে, রপ্তানির পরিমাণ ও পণ্যের মূল্য, দুটোই কমেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। ফলে মোট রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেকই যেহেতু ইইউ বাজার থেকে আসে, তাই এ ধরনের পতন দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তনের ফলে চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ প্রতিযোগী দেশগুলো এখন ইইউ বাজারে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং বাংলাদেশের ওপর চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় বাজারে পোশাকের চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়াও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে ক্রেতারা আগের তুলনায় বেশি দরকষাকষি করছেন এবং কম দামে পণ্য কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন, যা রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো ইইউ বাজারেই পোশাক আমদানিতে মন্দা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জানুয়ারিতে ইইউর মোট পোশাক আমদানি ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরোতে। এর মধ্যে আমদানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থাও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। চীন ২ দশমিক ২২ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক রপ্তানি করলেও তাদের রপ্তানি মূল্য কমেছে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। তুরস্ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ২৯ দশমিক ১২ শতাংশ পতনের মুখে পড়েছে। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াও নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির ধারা থেকে বের হতে পারেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপের বাজারে চাহিদা হ্রাস, মূল্যচাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সমন্বয়েই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে বছরের শুরুতেই দেশের তৈরি পোশাক খাত নতুন করে বড় চাপের মুখে পড়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তারা দ্রুত কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স উন্নত করা এবং বাণিজ্য কূটনীতি জোরদার করা জরুরি।

পাশাপাশি লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যবসার ব্যয় হ্রাস এবং ইইউসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় বাজারের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাধারা/এসআর