ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২

যুদ্ধবিমান ইস্যুতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান আলোচনা: নিবিড় নজরে ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ১০, ২০২৬, ১২:১৫ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনা ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক আগ্রহ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। নয়াদিল্লির মতে, এ ধরনের সামরিক আলোচনা আঞ্চলিক ভারসাম্য ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয় ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সে ধরনের পরিস্থিতির ওপর আমরা নিবিড় দৃষ্টি রাখছি।”

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের সাম্প্রতিক ইসলামাবাদ সফর এবং সেখানে যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে- এমন খবরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল এই মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা–করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়টিও উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি ঢাকা চেয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের বিষয়গুলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বিমান পরিষেবা চুক্তির আওতায় নিষ্পত্তি করা হবে।

এদিকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় ভারতের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদীদের দ্বারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার হামলার একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করছি। এসব সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দ্রুত ও কঠোরভাবে মোকাবিলা করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সহিংস ঘটনাকে ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক বিরোধ বা অন্য কোনো অপ্রাসঙ্গিক কারণে ব্যাখ্যা করার একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি উগ্রবাদী ও অপরাধীদের উৎসাহিত করে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তোলে।

এছাড়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ভারত বরাবরের মতোই অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পক্ষে রয়েছে।

তার ভাষায়, “একটি বিশ্বাসযোগ্য জনমত বা ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ভারত এই নীতিগত অবস্থান থেকেই ধারাবাহিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে আসছে।”


বাংলাধারা/এসআর