প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০২:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মোহাম্মদ সামি,মানিকগঞ্জ:
নদীজুড়ে কচুরিপানার ঘন জট, কোথাও কোথাও পানির অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও নদীটি প্রায় পানিশূন্য অবস্থায় রয়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে নৌযান চলাচল, বিপাকে পড়েছেন জেলে, কৃষক ও নদীকেন্দ্রিক জীবিকার সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষ।
এৃমটাই দেখা মিলে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার প্রাণ হিসেবে পরিচিত গাজীখালী নদীতে।
এলাকাআাসির অভিযোগ, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খননকাজে সাটুরিয়া অংশেই প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও বাস্তবে কোনো সুফল মেলেনি। বরং কয়েক বছরের ব্যবধানে আবারও কচুরিপানায় ভরে গেছে নদী, হারিয়েছে তার স্বাভাবিক প্রবাহ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাটুরিয়ার গোপালপুর থেকে ধামরাইয়ের বারবারিয়া এলাকা পর্যন্ত নদীর বিস্তীর্ণ অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও এতটাই ঘন জট তৈরি হয়েছে যে পানির পরিবর্তে চোখে পড়ে শুধু সবুজ কচুরিপানা। ফলে নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় গাজীখালী নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল সাটুরিয়া বাজার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা বড় বড় নৌকায় করে এই নদীপথে বাজারে আসতেন। নদী ছিল এলাকার অর্থনীতি, যোগাযোগ ও জীবিকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কিন্তু আজ সেই নদীর অস্তিত্বই হুমকির মুখে।
জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ‘ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্প’-এর আওতায় সাটুরিয়া, ধামরাই ও সিঙ্গাইর এলাকায় প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গাজীখালী নদী খনন করা হয়। তিনটি অংশে বিভক্ত এ প্রকল্পে ব্যয় হয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাটুরিয়া অংশে ব্যয় হয় প্রায় ১৬ কোটি টাকা।
সাটুরিয়ার হরগজ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ (৬০) বলেন, “আগে নৌকায় করে গাজীখালী নদী হয়ে সাটুরিয়া হাটে আসতাম। এখন খালেও পানি নেই, নদীতেও নেই। কচুরিপানার কারণে পানিও দেখা যায় না।
দরগ্রাম এলাকার জেলে জ্যোতিন রাজবংশী (৬৫) বলেন, “একসময় এই নদীতে শত শত জেলে মাছ ধরে সংসার চালাত। এখন নদীতে পানি নেই, মাছও নেই। বাধ্য হয়ে অনেক জেলে অন্য পেশায় চলে গেছে।”
পানাইজুরি গ্রামের মো. গোলাম মোস্তফা (৭৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এক সময় বড় বড় নৌকা ও স্টিমার চলত এই নদীতে। এখন কচুরিপানার কারণে ছোট নৌকাও চলতে পারে না। আগে নদীতে ছিল শুধু পানি, এখন আছে শুধু পানা।”
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, “আমি যোগদানের আগেই গাজীখালী নদীর পুনঃখননের কাজ হয়েছে, তাই সে বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না। তবে বর্তমানে নদীতে পানি না আসার প্রধান কারণ হলো গোপালপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর উৎসমুখ যমুনা নদীর পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়া। উৎসমুখ পুনঃখনন করা গেলে নদীতে আবারও পানি প্রবাহ ফিরে আসতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খননের পরও যখন নদীর নাব্যতা ফিরছে না, তখন দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় এনে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ ও উৎসমুখ খননের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় এক সময়ের খরস্রোতা গাজীখালী নদী মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন