প্রকাশিত: ১৫ ঘন্টা আগে, ০৭:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে টানা দুই দিনের অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান ও বিলাসবহুল সামগ্রী উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, দুটি ফ্ল্যাট থেকে ২৬৯ ধরনের দেড় হাজারের বেশি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ টিম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত দুই দিন ধরে গুলশানের ৬৬ নম্বর রোডের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে অবস্থিত দুটি ফ্ল্যাটে ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করে। অভিযান শেষে ফ্ল্যাট এ-৭ থেকে প্রায় ১ হাজার ১৩৫টি এবং ফ্ল্যাট বি-৭ থেকে প্রায় ৪০০টি সামগ্রী তালিকাভুক্ত করা হয়।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, প্রায় ১০০টি কামিজ, আটটি ঘড়ির বক্স (যার মধ্যে চারটি রোলেক্স), মুক্তার গয়না, ঝাড়বাতি, বেড, সোফা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), সিলিং ফ্যান, ট্রেডমিল, ফ্রিজ, স্যুটকেস, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য সামগ্রী।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়িগুলোর ক্রয় রসিদও পাওয়া গেছে। সেই রসিদে প্রতিটি ঘড়ির মূল্য ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে।
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। শুরুতে দুদক, সিআইডি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সমন্বয়ে সাত সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও পরে তা পুনর্গঠন করা হয়। বর্তমানে দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি দল অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
দুদক ইতোমধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী, ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে।
গত ২ জুলাই আদালতের নির্দেশে গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে রিসিভার হিসেবে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইনভেন্টরি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এর আগে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া ১৩ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি দেশে থাকা তার বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগ অবরুদ্ধ করারও আদেশ দেওয়া হয়। এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের আনুমানিক মূল্য ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন