বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ০৮:১১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মেজর (অব.) মোজাফফরের বিচার হবে জেনারেল কোর্ট মার্শালে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, “তার অন্য সহযোগীদের বিচার সামরিক আদালতে হয়েছিল এবং সে বিষয়ে আদালতের কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। দীর্ঘদিন তিনি ভিন্ন পরিচয়ে প্রতিবেশী একটি দেশে আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় যেসব আসামি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, একই রায়ে মোজাফফর হোসেনকে ঘিরে যদি কোনো পর্যবেক্ষণ বা নির্দেশনা থেকে থাকে, সেগুলোও জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনায় নেবে।

মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে সিভিল আইনে পৃথক কোনো মামলা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনই বিবেচনায় নেই। তিনি বলেন, “একই ব্যক্তিকে একই অপরাধে দুটি পৃথক আইনে বিচার করা যায় না। ভবিষ্যতে আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন ৭৭ বছর বয়সী মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত পরিস্থিতি, ল্যান্ডমাইন এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন শনাক্ত করতে বিজিবিকে আধুনিক যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর মাধ্যমে কাজ চলছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই সীমান্তে আরাকান আর্মি, মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তেও পড়ে। মাদক চোরাচালান, অস্ত্রের ঝুঁকি, গোলাগুলি এবং সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানির মতো ঘটনা বিবেচনায় নিয়েই সরকার সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।

অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কাউকে জোরপূর্বক ‘পুশইন’ করতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এ ধরনের প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে সীমিত সংখ্যক অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যদি ভারতে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে তাকে অবশ্যই দুই দেশের সরকারি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত পাঠাতে হবে। আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন