প্রকাশিত: ১১ আগষ্ট, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত গুরুতর অপরাধের দায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই মামলায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও চাচাতো ভাই, দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদালতের রায়ে বাশার আল-আসাদকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে আতেফ নাজিবকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত ২০১১ সালে দারা প্রদেশে আসাদ সরকারের দমন-পীড়নের সময় সংঘটিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আতেফ নাজিব ছিলেন সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই। ২০১১ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সে সময় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযান পরিচালনার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে ওই দমন-পীড়নই দেশটিতে ব্যাপক বিদ্রোহ এবং দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
আদালত জানিয়েছে, নাজিব ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং মৃত্যুদণ্ডযোগ্য নির্যাতনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহী বাহিনী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হলে বাশার আল-আসাদের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। সে সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে আশ্রয় নেন। তবে আতেফ নাজিব দেশ ছাড়তে পারেননি। পরবর্তী সময়ে তাকে আটক করে বিচারের আওতায় আনা হয়।
আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এটি অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রথম কোনো আদালতের রায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ার সাবেক শাসক পরিবারের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো।
১৯৭০ সালে হাফেজ আল-আসাদের ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের দীর্ঘ শাসনের সূচনা হয়। তার মৃত্যুর পর ২০০০ সালে ক্ষমতায় আসেন ছেলে বাশার আল-আসাদ। অর্থাৎ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাবা ও ছেলে মিলে দেশটি শাসন করেছেন।
২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রভাবে বাশার আল-আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হলে তা দ্রুত সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। এরপর প্রায় ১৩ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সিরিয়া বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের হিসাবে, ওই সংঘাতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে আদালতের এই রায় তাই শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়; দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা সিরিয়ার সংঘাত, দমন-পীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারপ্রক্রিয়ায়ও এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন